প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পাকিস্তানে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার পর দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের বিভিন্ন হামলার পেছনে তালেবান সরকারের সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাত রয়েছে। আফগানিস্তান সীমান্তে এই ধরনের হামলার জবাবে পাকিস্তান প্রয়োজনে সেখানে অভিযান চালাতে বাধ্য হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এই খবর প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার এই পরমাণু অস্ত্রধারী দেশে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর উত্তেজনা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তানের সরকারি ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় তালেবান ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা আরও বেড়ে যেতে পারে।
খাজা আসিফ জানিয়েছেন, “তালেবান সরকারের মদদে সন্ত্রাসীরা আমাদের দেশে হামলা চালাচ্ছে। সীমান্ত পার হয়ে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে অভিযান চালানো অসম্ভব নয়। আমরা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।” এছাড়া তিনি ভারতের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি আমাদের সীমান্ত বা দেশের কোথাও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ভারতের কোনও সম্পৃক্ততা দেখা যায়, তবে পাকিস্তান যথাযথ জবাব দিতে দেরি করবে না।”
এর আগে, ইসলামাবাদ জেলা আদালত চত্বরে গতকাল (১০ নভেম্বর) আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। হামলার দায় পাকিস্তানি তালেবান স্বীকার করেছে। একইসঙ্গে, সাউথ ওয়াজিরিস্তানের একটি ক্যাডেট কলেজেও সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় পাকিস্তান সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানের এই হুঁশিয়ারি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। সামরিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে এটি নীতি নির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এছাড়া সন্ত্রাসী হামলার কারণে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ রাখার জন্য দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য অভিযান বাস্তবায়ন করলে তালেবান ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়া হতে পারে, যা আবারও সীমান্ত সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এ ছাড়া তারা বলছেন, সাম্প্রতিক হামলার পেছনে রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাবও থাকতে পারে, যা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তানে সীমান্ত পার হওয়া অভিযানের সম্ভাবনা বর্তমানে পাকিস্তান-আফগানিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য বড় চাপ তৈরি করতে পারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তারা উদ্বিগ্ন যে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে পুনরায় সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
পাকিস্তানের সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী ইতিমধ্যেই সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফগানিস্তান সীমান্তে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আগে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমন্বয় অপরিহার্য। তবে খাজা আসিফের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, পাকিস্তান তার জনগণ ও দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।
এদিকে, সাধারণ নাগরিকরা সন্ত্রাসী হামলার প্রভাব এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে ইসলামাবাদ, পেশাওয়ার ও অন্যান্য সীমান্তবর্তী শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলেও মানুষ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসগুলোতেও সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সন্ত্রাস ও প্রতিক্রিয়ার চক্র আরও জটিল হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।