সর্বশেষ :
আগে ক্লিন, পরে গ্রিন—ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর: উত্তর সিটির প্রশাসক চট্টগ্রামে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা মামলায় আসামি ১৯ জিয়াউর রহমানের ওপর গবেষণা অপ্রতুল, যা ইতিহাসের প্রতি অবিচার: ফখরুল শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন তথ্য উপদেষ্টা জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু : শিক্ষামন্ত্রী স্পেনকে রুখে দেওয়া ভোজিনহার এক রাতেই ফলোয়ার ৫৭ লাখ! ‘চাঁদা দাবির’ অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি তিন মাসের মধ্যে চীনে বিডার প্রথম বিদেশি অফিস খোলা হবে : আশিক চৌধুরী তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবেই ভারত থেকে ফিরেছি: ডা. জাহেদ উর রহমান

কুমিল্লায় গ্যাস চুলা বিতর্কে বড় ভাই নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬
  • ১৯ বার
কুমিল্লায় গ্যাস চুলা বিতর্কে বড় ভাই নিহত

প্রকাশ:  ১৪ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় গ্যাসের চুলাকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বড় ভাই নিহত হয়েছেন। রায়চর গ্রামের এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। মৃত ব্যক্তির নাম বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া (৪৮), যিনি ওই গ্রামের আবদুল মালেক ভূঁইয়ার ছেলে। ঘটনা ঘটেছে গতকাল শুক্রবার ইফতারের আগের মুহূর্তে। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ছোট ভাই আনিসুর রহমান ভূঁইয়া ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন তাকে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিল্লাল ও আনিসুরের মধ্যে গ্যাসের চুলাকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার বিকেলে এই বিরোধই দেহান্তকর আকার ধারণ করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, দু’ভাই একে অপরের সঙ্গে কথা কাটাকাটির সময় মুহূর্তের উত্তেজনায় ছোট ভাই আনিসুরের হাতে ছুরি তুলে পড়ে। একাধিক ছুরিকাঘাতের ফলে বড় ভাই বিল্লাল ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ ঘটনার পর আনিসুর দ্রুত পালিয়ে গিয়ে গ্রামের বাইরে লুকিয়ে পড়েন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক ব্যবস্থা নিয়েছে। অভিযুক্তের স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁকে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার জানান, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্তকে ধরার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, দুই ভাইই গ্রামের পরিচিত মুখ ছিলেন। বিশেষ করে বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া বহুদিন ধরে এলাকায় শান্তিপ্রিয় এবং সহৃদয় হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডে পুরো গ্রামের মানুষ চাঞ্চল্যের মধ্যে পড়েছেন। প্রতিবেশীরা জানান, দুই ভাইয়ের মধ্যে পূর্বে থেকেই ছোটখাটো ঝগড়া চলত, তবে কেউ ভাবতেও পারত না যে এটি হত্যাকাণ্ডে পরিণত হবে।

অভিযোগ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ছোট ভাই আনিসুরের উত্তেজনা এবং মুহূর্তের রোষের কারণে এই ধ্বংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সমাজকর্মীরা এবং গ্রামবাসীরা পুলিশকে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় কুমিল্লা সদর উপজেলার প্রশাসনও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তারা বলেছে, এমন দুঃখজনক ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে অভিযান ও অনুসন্ধান চালিয়ে তারা শীঘ্রই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করবে।

প্রতিবেশীরা জানান, শুক্রবার বিকেল থেকেই গ্রামে আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করেছে। মৃতদেহের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের ঘর এলাকায় মানুষ সমবেত হয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়রা আশা করছেন, আইনের আওতায় অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধ করা যায়।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যার ঘটনা মুহূর্তের রোষ ও দ্বন্দ্বের ফল, যা সচেতন না হলে বড় ধরনের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে রূপ নিতে পারে। তাই পরিবার, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনকে একত্রে কাজ করতে হবে যাতে শান্তি বজায় থাকে।

এই হত্যাকাণ্ড কেবল একটি পারিবারিক দ্বন্দ্বের ঘটনা নয়, বরং গ্রামীণ অঞ্চলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ও আক্রমণাত্মক মনোভাবের প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন ঘটনাগুলোতে পরিবারের ভেতরের সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে তা দুঃখজনক পরিণতির দিকে যেতে পারে।

মুর্দেহের ময়নাতদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত রিপোর্ট প্রস্তুত হবে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ছোট ভাই আনিসুরকে দ্রুত গ্রেফতারের পর ঘটনার সব দিক উন্মোচিত হবে এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার স্থানীয় সমাজকর্মী ও রাজনীতিকরা জানিয়েছেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে এই ধরনের মারাত্মক দ্বন্দ্ব কখনো আশা করা যায়নি। তারা পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।

এই ঘটনায় গ্রামীণ এলাকায় পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও ছোটখাটো বিরোধই বড় অঘটনের কারণ হতে পারে, যা সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার প্রমাণ। স্থানীয়রা আশা করছেন, পুলিশি কার্যক্রম ও আইনানুগ পদক্ষেপের মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত