প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের রাষ্ট্রের স্বার্থ, সংবিধানের মর্যাদা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে সততা, স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেছেন, আইন কর্মকর্তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত। ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনই হবে তাদের প্রধান অঙ্গীকার।
রোববার (২ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ২৬৬ জন আইন কর্মকর্তার প্রথম কর্মদিবসে আয়োজিত কার্যক্রমে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল। এদিন আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম শুরুর আগে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক কর্মযাত্রার সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, রাষ্ট্রের পক্ষে আদালতে আইনগত অবস্থান উপস্থাপন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব। তাই প্রতিটি আইন কর্মকর্তাকে নিরপেক্ষতা, সততা এবং পেশাগত দক্ষতার সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কাজ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইন কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম কিংবা পক্ষপাতের সুযোগ থাকা উচিত নয়। জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য তাদের স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ধরে রাখতে আইন কর্মকর্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালতে রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করার সময় আইন, সংবিধান এবং ন্যায়বিচারের নীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা রাজনৈতিক বিবেচনা নয়, বরং আইন ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই প্রতিটি মামলা পরিচালনা করা উচিত।
আইন অঙ্গনের বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাটর্নি জেনারেলের এই বার্তা নতুন আইন কর্মকর্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ রাষ্ট্রের পক্ষে আদালতে মামলা পরিচালনা, সাংবিধানিক ব্যাখ্যা প্রদান এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত উপস্থাপনের ক্ষেত্রে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিকতার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব বহন করে।
এর আগে গত ৩০ জুলাই আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৮০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন নিয়োগের মাধ্যমে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে উচ্চ আদালতে রাষ্ট্রের মামলা পরিচালনায় গতি আসবে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
নবনিযুক্ত আইন কর্মকর্তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ আদালতে আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন। তাদের অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নৈতিকতা, পেশাগত মান এবং জবাবদিহিতার বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
বিচার সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একটি কার্যকর বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় আদালত, বিচারক, আইনজীবী এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তাদের সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য। বিশেষ করে সংবিধান, জনস্বার্থ, মানবাধিকার এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোতে রাষ্ট্রের অবস্থান যথাযথভাবে তুলে ধরতে দক্ষ ও দায়িত্বশীল আইন কর্মকর্তার বিকল্প নেই। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রতি অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশনা সেই প্রত্যাশাকেই আরও শক্তিশালী করেছে।
প্রথম কর্মদিবসেই সততা, স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করে অ্যাটর্নি জেনারেল যে বার্তা দিয়েছেন, তা আইন অঙ্গনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নীতিগত অবস্থান বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রের আইনগত কার্যক্রম আরও জবাবদিহিমূলক, কার্যকর এবং জনগণের আস্থাভাজন হয়ে উঠবে।