জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের নতুন মহাপরিচালক ড. কামরুজ্জামান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
  • ১ বার
জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের নতুন মহাপরিচালক ড. কামরুজ্জামান

প্রকাশ: ৩১ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হলো চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, যার মাধ্যমে এ দেশের দামাল ছেলেরা নিজেদের রক্ত ও জীবনের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের কবল থেকে জাতিকে মুক্তি এনে দিয়েছিল। সেই রক্তক্ষয়ী আন্দোলন, অদম্য গণজাগরণ এবং লাখো ছাত্র-জনতার ত্যাগের স্মৃতিকে চিরদিন অমর করে রাখতে এবং আগামী প্রজন্মের কাছে এর সঠিক ইতিহাস ও অন্তর্নিহিত তাৎপর্য নিখুঁতভাবে তুলে ধরার মহান ব্রত নিয়ে সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানটিকে আরও বেশি গতিশীল, প্রাণবন্ত এবং যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবার এর প্রশাসনিক নেতৃত্বে এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের এক সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ যুগ্মসচিব এবং বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে এই মর্যাদাপূর্ণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে অত্যন্ত দায়িত্বশীল পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

নতুন এই নিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে। সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখা থেকে গত বুধবার অর্থাৎ ঊনত্রিশ জুলাই তারিখে জারি করা একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই রদবদল ও নতুন পদায়নের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীকে জানানো হয়। এর আগে দীর্ঘ দিন ধরে জাতীয় জাদুঘরের সম্মানিত মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালকের গুরুদায়িত্বও সফলভাবে পালন করে আসছিলেন। তাঁর এই অন্তর্বর্তীকালীন ও নানামুখী প্রচেষ্টার ফলেই জাদুঘরটি প্রাথমিক ও কঠিন পথ পেরিয়ে আজকের এই সুনির্দিষ্ট কাঠামোগত রূপ লাভ করতে পেরেছিল। তবে কাজের পরিধি বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়া এবং জাদুঘরের কার্যক্রমকে আরও অধিকতর গতিশীল করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হওয়ায় সরকার এবার একজন পূর্ণাঙ্গ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তাকে এই দপ্তরের হাল ধরার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব অর্পণ করার সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

সরকারের সদ্য প্রকাশিত সেই প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী জানা যায় যে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা পদোন্নতিজনিত কারণে যুগ্মসচিব পদে কর্মরত ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে তাঁর বর্তমান দায়িত্ব থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলিপূর্বক প্রেষণে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সরাসরি অধীনস্থ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রেষণ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দলিলপত্র ও স্মৃতিচিহ্নগুলোকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে নতুন এই মহাপরিচালকের অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা এক বিশাল ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা জোরালো আশা প্রকাশ করছেন। প্রশাসনিক ঝঞ্জাবিক্ষোভ ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি যেন তার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত না হয়, সে বিষয়ে ড. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি সুশৃঙ্খল কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

২০২৪ সালের সেই রক্তঝরা জুলাই মাসের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও ত্যাগের মহিমাকে কেবল পাঠ্যপুস্তকের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে তা চাক্ষুষ ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য সরকার এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দূরদর্শী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। তৎকালীন সময়ে রাজপথে ঝরে পড়া তরুণ প্রাণের স্মৃতিচিহ্ন, সংগ্রামী জনতার ব্যবহৃত বিভিন্ন পোস্টার, ব্যানার, আলোকচিত্র এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নানা অমূল্য উপাদান সুসংরক্ষিত রাখার মাধ্যমেই নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস শিক্ষা দেওয়ার কাজটি এই জাদুঘর অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে করে আসছে। ইতিহাসের এই পবিত্র আমানত রক্ষা করার কাজটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হওয়ায় এর প্রশাসনিক দায়িত্বে এমন একজন ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন ছিল যিনি একই সঙ্গে ইতিহাসচেতনা এবং আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় সমানভাবে পারদর্শী। ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের মতো একজন দক্ষ ও মেধাবী সরকারি কর্মকর্তার কাঁধে এই গুরুদায়িত্ব অর্পিত হওয়ায় সেই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন প্রক্রিয়াটি আরও বেশি সুচারু ও পরিপক্ব হবে বলে সচেতন মহল মনেপ্রাণে বিশ্বাস করছে।

নতুন মহাপরিচালকের যোগদান ও তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরটি অদূর ভবিষ্যতে আরও অনেক বেশি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে এবং এর কার্যক্রম দেশবাসীর কাছে আরও ব্যাপকভাবে সমাদৃত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সকল মহল ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। চব্বিশের অভ্যুত্থানে যাঁরা শহীদ হয়েছেন এবং যাঁরা গুরুতর আহত হয়ে আজও শারীরিক যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছেন, তাঁদের স্বপ্ন ও আদর্শের একটি মূর্ত প্রতীক হিসেবে এই জাদুঘরটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে প্রেরণার এক চিরন্তন বাতিঘর হয়ে থাকবে। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. কামরুজ্জামান জাদুঘরের সার্বিক কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পাশাপাশি এর পরিধি ও গবেষণা কার্যক্রম আরও প্রসারিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে দেশবাসী ও জুলাইয়ের বীর যোদ্ধারা আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত