দীর্ঘ আট মাস পর মসজিদুল হারামের ইমামতিতে ফিরলেন শাইখ ড. ফয়সাল

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৯ বার
দীর্ঘ আট মাস পর মসজিদুল হারামের ইমামতিতে ফিরলেন শাইখ ড. ফয়সাল

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মক্কা মুজ্জাম্মারের মসজিদুল হারামে দীর্ঘ আট মাস অসুস্থতার কারণে ইমামতির দায়িত্ব থেকে বিরত থাকা শাইখ ড. ফয়সাল বিন জামিল আল গাজ্জাওয়ি আবারও দায়িত্ব পালন শুরু করছেন। বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে কুরআনের সঠিক তেলাওয়াত ও হৃদয়গ্রাহী ইমামতির জন্য সুপরিচিত এই সিনিয়র ইমাম দীর্ঘ সময় অসুস্থ থাকায় মুসলিম উম্মাহ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তার সুস্থ হয়ে আবারও মসজিদুল হারামের ইমামতি শুরু করার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিমদের মধ্যে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতার ঢেউ বয়ে গেছে।

শাইখ ড. ফয়সাল বিন জামিল আল গাজ্জাওয়ি কেবল মসজিদুল হারামের সিনিয়র ইমামই নন, তিনি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার তেলাওয়াতের কণ্ঠে কুরআনের প্রতি শ্রদ্ধা, গভীর আধ্যাত্মিকতা ও ভক্তিমূলক আবেগ প্রকাশ পায়। এটি বিশ্বের লাখ লাখ মুসলমানের হৃদয়ে বিশেষ প্রভাব ফেলে। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ সময় তিনি মসজিদুল হারামের মূল ইমামতির দায়িত্ব থেকে দূরে থাকলেও, তার অনুপস্থিতি মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে শূন্যতার অনুভূতি সৃষ্টি করেছিল।

ড. ফয়সাল আল গাজ্জাওয়ি গত কয়েক মাসে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। স্বাস্থ্যবান হওয়ার পর তিনি আবারও ইমামতির দায়িত্ব নেয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। মক্কার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তার পুনরায় ইমামতি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শাইখের ফিরে আসা শুধু মক্কার মুসলিমদের জন্য নয়, বরং বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্যও এক ধরনের প্রেরণা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা শাইখ ড. ফয়সালের অসুস্থতার সময় তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ইসলামী ওয়েবসাইটে তার সুস্থতা ও পুনরায় ইমামতি শুরু করার খবরে ভক্তরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে তার কণ্ঠে কুরআনের তেলাওয়াত শোনার অভিজ্ঞতা এক ধরনের আধ্যাত্মিক সান্ত্বনা ও অনুপ্রেরণার উৎস।

মসজিদুল হারামের ইমাম হিসেবে তার দায়িত্বের মূল উদ্দেশ্য হলো নামাজের মাধ্যমে মুসলমানদের সঙ্গে আল্লাহর সংযোগ স্থাপন করা। দীর্ঘ আট মাস বিরতির পর ফের দায়িত্বে যোগদানের মাধ্যমে তিনি মুসলিম উম্মাহর আধ্যাত্মিক প্রয়োজন পূরণে আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। এ সময়ে তার শিক্ষণ ও তেলাওয়াতের কৌশল মুসলমানদের হৃদয়ে ধর্মীয় অনুপ্রেরণা জাগিয়েছে এবং কুরআনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা স্থাপন করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শাইখ ড. ফয়সালের কণ্ঠের স্বর তার অনন্যতা তৈরি করেছে। তার তেলাওয়াতের ভঙ্গি, আক্ষেপ ও গভীরতা মুসলমানদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নে বিশেষ প্রভাব ফেলে। দীর্ঘকালীন অসুস্থতার পর আবারও ইমামতি দায়িত্ব গ্রহণ করা তার ব্যক্তিগত অধ্যবসায়, সৃষ্টিশীলতা ও আধ্যাত্মিক প্রতিশ্রুতির প্রমাণ।

মসজিদুল হারামের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষও শাইখ ড. ফয়সালের ফিরে আসাকে ইতিবাচকভাবে দেখেছে। তারা জানিয়েছেন, তার পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ মসজিদুল হারামের নামাজ ও অন্যান্য আধ্যাত্মিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে। এছাড়া, মুসলিম বিশ্বে তার উপস্থিতি কুরআনের শিক্ষার মান এবং ইমামতির গুণমান বৃদ্ধি করবে।

উল্লেখযোগ্য, শাইখ ড. ফয়সালের ইমামতি কেবল কুরআনের তেলাওয়াত বা নামাজের সীমাবদ্ধ নয়; তিনি শিক্ষা, উপদেশ ও আধ্যাত্মিক পরামর্শের মাধ্যমে মুসলমানদের নৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখেন। তার উপস্থিতি মুসলিম সমাজে শান্তি, ঐক্য ও আধ্যাত্মিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এই প্রসঙ্গে মক্কার স্থানীয় কিছু ধর্মগুরু ও পণ্ডিতরা জানিয়েছেন, “শাইখ ড. ফয়সালের ইমামতি কেবল ধর্মীয় কার্যক্রম নয়, বরং এটি মুসলমানদের মধ্যে এক ধরনের ঐক্য ও আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে। তার তেলাওয়াতের স্বর মুসলমানদের মনে কুরআনের শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর প্রভাব ফেলে।”

মসজিদুল হারামের সঙ্গে যুক্ত অনলাইন সম্প্রচার ও বিশ্বব্যাপী ইসলামিক চ্যানেলগুলোও শাইখের ফেরার খবর প্রচার করছে। মুসলিম ভক্তরা তার তেলাওয়াত শোনার জন্য নতুন উদ্দীপনা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এভাবে তার উপস্থিতি শুধু মক্কার মুসলিমদের জন্য নয়, বরং বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে পরিচিত।

এই দীর্ঘকালীন বিরতির পর শাইখ ড. ফয়সাল বিন জামিল আল গাজ্জাওয়ির পুনরায় ইমামতি শুরু মুসলিম উম্মাহর জন্য এক প্রমাণ, যে ধর্মীয় কর্তব্য ও আধ্যাত্মিক দায়িত্ব কখনো স্থগিত থাকে না; ধৈর্য, অধ্যবসায় ও দোয়ার মাধ্যমে তা পুনরায় সম্পূর্ণ করা সম্ভব। মুসলিম সমাজে তার ফেরার খবর ইতিমধ্যেই আনন্দের সঞ্চার করেছে এবং কুরআনের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে।

মুসলিমরা আশা করছেন, শাইখ ড. ফয়সাল আল গাজ্জাওয়ি আবারও তাদের হৃদয়ে কুরআনের তেলাওয়াতের মাধ্যমে শান্তি, আধ্যাত্মিকতা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করবেন। দীর্ঘ আট মাসের অপেক্ষার পর তার এই পুনরাগমন শুধু মক্কার মুসলিমদের জন্য নয়, বরং বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি প্রেরণার প্রতীক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত