রাজশাহীতে ডেঙ্গুতে শিশুসহ দুইজনের মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৮ বার

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু ঘটেছে, যার মধ্যে একজন পাঁচ বছরের শিশু সাবিহা। হাসপাতালের সূত্রে জানা গেছে, সাবিহা শুক্রবার দিবাগত রাতে নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি নওগাঁ জেলার বাসিন্দা। অপরদিকে মিথু (৩০) শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাবিহাকে ৬ নভেম্বর ভোরে জ্বর ও কাশির সমস্যায় ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যায় এবং তাকে পেডিয়াট্রিক আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত সে প্রাণ হারায়। মিথু গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে হাসপাতালে আনা হয়। পাঁচ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। দুজনেরই কোনো সাম্প্রতিক ভ্রমণের ইতিহাস ছিল না।

ডেঙ্গুর প্রকোপ এ বছর রাজশাহী অঞ্চলে তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪০৫ জন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৩৪৭ জন সুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন, তবে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, গত বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ চিকিৎসক শংকর কে বিশ্বাস জানান, “ডেঙ্গু রোগকে অনেক সময়েই অনেকেই অবহেলা করেন। সাধারণ জ্বর হলে ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিয়ে বাড়িতেই ভরসা করেন, পরীক্ষা করান না। পরে যখন অবস্থা গুরুতর হয়ে যায়, তখন হাসপাতালে আনা হয়। সেই সময় অনেক ক্ষেত্রেই রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয় না।” তিনি আরও বলেন, “যারা গতকাল মারা গেছেন, তাঁরা সময়মতো চিকিৎসা শুরু করেননি। ফলে অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।”

ডেঙ্গুর প্রকোপ এ অঞ্চলে প্রতি বছরই দেখা যায়, তবে এ বছর শিশু এবং যুবকরা বিশেষভাবে সংক্রমিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অযত্নে থাকা বা সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়া ডেঙ্গুর ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দেয়। যেসব রোগী প্রথমে সাধারণ জ্বর বা ঠাণ্ডা ভাব অনুভব করেন, তাদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিলে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে হাসপাতালে ভর্তি না হলেও সচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, বিশ্রাম এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ নেওয়ার পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকা থেকে মশা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। স্থানীয় ওষুধাগার বা বাজার থেকে অযাচিত ওষুধ নিলে ডেঙ্গুর উপসর্গ আরও বাড়তে পারে।

নওগাঁ ও রাজশাহীর স্থানীয় প্রশাসনও রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সতর্ক করেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত এলাকায় মশা নিধন, পোকামাকড়ের লার্ভা ধ্বংস এবং পরিবারগুলোর মধ্যে সচেতনতা মূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র প্রশাসনের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়; পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়কেও মশা প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে সক্রিয় হতে হবে।

ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধে শিক্ষিত ও সজাগ থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শিশুসহ বড়দের ক্ষেত্রে জ্বর, মাথা ব্যথা, চোখে ব্যথা, শরীরে র‍্যাশ বা হঠাৎ কমে যাওয়া রক্তের প্লেটলেটের মাত্রা ডেঙ্গুর লক্ষণ হতে পারে। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবিলম্বে হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল টিম আরও বলেছে, এ অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় সরকারী হাসপাতাল, স্থানীয় ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া, রোগীদের পরিচর্যা ও জরুরি চিকিৎসার জন্য আইসিইউ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

শংকর কে বিশ্বাস বলেন, “আমরা চাই, মানুষ সময়মতো চিকিৎসা নিক, বাড়িতে ওষুধ খেয়ে অবহেলা না করে। ডেঙ্গুতে সচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসা রোগীকে বাঁচাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এই নতুন তথ্য প্রকাশ রোগী ও পরিবারের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, ডেঙ্গুর সংক্রমণ রোধে স্থানীয় জনগণ আরও সচেতন হবে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা কেন্দ্রে আগেভাগে আসবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ, মশা নিধন ও প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া না হলে আরও শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার জনগণকে সতর্ক করেছেন, ডেঙ্গুকে ছোটভাবে না দেখার এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার জন্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত