হাম আতঙ্কে হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬৯ বার
হাম আতঙ্কে হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগী

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে অসংখ্য শিশু, আর একই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীর চাপ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে, যা স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে হাম ও এর জটিল উপসর্গে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ১৯৮ জন শিশু। এই পরিসংখ্যান জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে একটি বড় অংশ প্রথমে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। কিন্তু পরবর্তীতে যথাযথ বিশ্রাম, পুষ্টি ও চিকিৎসা অনুসরণ না করায় অনেক শিশু আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এতে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে এবং পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। ফলে হাসপাতালগুলোতে চাপ আরও বাড়ছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম শুধু একটি ভাইরাসজনিত রোগ নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং তীব্র পুষ্টিহীনতার মতো জটিলতা। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে মৃত্যু ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

হাসপাতালগুলোর পরিস্থিতি বর্তমানে চাপের মধ্যে রয়েছে। শিশু ওয়ার্ডগুলোতে প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে, আবার অনেক শিশু দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকছে জটিলতা বেড়ে যাওয়ার কারণে। চিকিৎসক ও নার্সদের মতে, রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় সেবা দিতে গিয়ে তারা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, অনেক পরিবার এখনো হামকে সাধারণ রোগ হিসেবে ধরে নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে যথাযথ চিকিৎসা নিচ্ছে না। ফলে রোগটি জটিল আকার ধারণ করছে। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে টিকা গ্রহণে অনীহা বা সময়মতো টিকা না নেওয়াও সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে অভিভাবকরা সময়মতো শিশুদের টিকা নিশ্চিত করেন এবং আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

চিকিৎসকরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, হাম আক্রান্ত শিশুকে সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে এবং চিকিৎসা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত পানি ও বিশ্রাম নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে তা আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিশু মৃত্যুর হার বৃদ্ধি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

দেশজুড়ে এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো এবং টিকাদান কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, সচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা এবং টিকাদানই এই সংকট থেকে উত্তরণের প্রধান পথ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত