কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭৫ বার
কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত হয়ে থাকা কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে বাণিজ্যিক চাপে না ফেলে স্বাভাবিক ও ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।

শনিবার সকালে রাজধানীর ডেমরা এলাকায় একটি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান চ্যালেঞ্জ, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে কোচিং বাণিজ্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাগ্রহণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি জানান, সরকার এই বাণিজ্যিক প্রবণতা বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এবং পর্যায়ক্রমে এটি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয় এখনও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে সরকার একটি বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যার মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে বলেও তিনি জানান।

পরিদর্শনকালে তিনি বৃত্তি পরীক্ষা কেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না তা সরাসরি দেখেন। তিনি বলেন, পরীক্ষা চলাকালে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সরকারের অগ্রাধিকার।

এ সময় সাংবাদিকরা কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় অতিরিক্ত লোকজন উপস্থিত থাকায় পরীক্ষার্থীদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটছে কি না—এমন প্রশ্ন করলে প্রতিমন্ত্রী তা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, তার সঙ্গে থাকা লোকজনের সংখ্যা খুবই সীমিত ছিল এবং এতে পরীক্ষার্থীদের কোনো অসুবিধা হয়নি।

সরকারের শিক্ষানীতির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও জানান, বৃত্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কোচিং নির্ভরতা কমানো এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষার মান বৃদ্ধি করা গেলে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের আর্থিক চাপও হ্রাস পাবে।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কোচিং বাণিজ্য দীর্ঘদিন ধরেই একটি বিতর্কিত বিষয় হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে কোচিং সেন্টারের ওপর শিক্ষার্থীদের নির্ভরতা বাড়ায় শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব অনেকাংশে কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে সরকারের কঠোর অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে। তবে বাস্তবে এর কার্যকারিতা কতটা নিশ্চিত করা যাবে, তা নিয়ে সংশয়ও রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু আইনগত পদক্ষেপ নয়, বরং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, বিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা গেলে কোচিং নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

এদিকে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার ধাপে ধাপে এই খাতে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সরকারের নতুন ঘোষণা শিক্ষা খাতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক তদারকির ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত