মঠবাড়িয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে হাতুড়ি দিয়ে হামলা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১ বার
মঠবাড়িয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে হাতুড়ি দিয়ে হামলা

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ডান হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত ওই শিক্ষার্থীর নাম বীথি আক্তার (১৫)। সে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের শাঁখারিকাঠি গ্রামে। স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা ও পারিবারিক বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। সেই বিরোধই শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নেয়।

বীথি আক্তার শাঁখারিকাঠি গ্রামের বাসিন্দা বাদল হাওলাদারের মেয়ে এবং তুষখালী তোফেল আকন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী। পরিবার ও প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জমি সংক্রান্ত বিরোধের পাশাপাশি রান্নাঘরের ধোঁয়া যাওয়া নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে দুই পরিবারের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই সময় বীথি আক্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলে হঠাৎ করেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, একপর্যায়ে নজরুল ইসলাম হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে বীথির ডান হাতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং হাড়ে চিড় ধরে যায়।

হামলার পরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার ডান হাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

হাসপাতালের বেডে শুয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বীথি আক্তার বলেন, তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল এসএসসি পরীক্ষা ভালোভাবে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া। কিন্তু হামলার কারণে সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “আমি কোনো ঝগড়ায় ছিলাম না। শুধু দেখছিলাম কী হচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ আমার ওপর হামলা চালানো হয়। আমার হাত ভেঙে ফেলা হয়েছে, এখন আমি পরীক্ষা দিতে পারছি না।”

বীথির পরিবার এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করেছে, এটি পরিকল্পিত হামলা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ থাকলেও এ ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি বলেও নিশ্চিত করেছে প্রতিবেশীরা। ফলে ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পারিবারিক বিরোধ ও ছোটখাটো বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন ভয়াবহ ঘটনা তারা আগে কখনও দেখেননি। একজন পরীক্ষার্থীর ওপর এ ধরনের হামলা পুরো সমাজের জন্যই একটি অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। তারা মনে করছেন, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন পরীক্ষার্থীর ওপর এমন হামলা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি তার ভবিষ্যৎ ও মানসিক অবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীর জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়। তারা এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মানবাধিকারকর্মীরাও ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে একজন কিশোরীর ওপর এমন সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।

বর্তমানে বীথি আক্তার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার দিকে সবাই উদ্বেগের সঙ্গে তাকিয়ে আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সঠিক চিকিৎসা পেলেও তার ডান হাতের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরে পেতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

এদিকে পুরো এলাকায় এ ঘটনা নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত