প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চলতি এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য হাতঘড়ি ও ক্যালকুলেটর ব্যবহার সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে বোর্ড সূত্র জানিয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত কিছু মডেলের সায়েন্টিফিক নন-প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর পরীক্ষায় ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহারেরও সুযোগ রাখা হয়েছে।
বোর্ডের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর পরীক্ষার্থীরা শুধুমাত্র অনুমোদিত মডেলের ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। এর মধ্যে বিশেষভাবে নির্ধারিত কিছু বৈজ্ঞানিক ক্যালকুলেটর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেগুলো পরীক্ষার জন্য নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের উপযোগী হিসেবে বিবেচিত।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, অনুমোদিত ক্যালকুলেটরগুলোর মধ্যে রয়েছে এফএক্স ৮২এমএস, এফএক্স ১০০এমএস, এফএক্স ৫৭০এমএস, এফএক্স ৯৯১এমএস, এফএক্স ৯৯১ইএক্স, এফএক্স ৯৯১ইএস, এফএক্স ৯৯১ইএস প্লাস এবং এফএক্স ৯৯১সিডব্লিউ মডেল। এসব মডেল ছাড়া অন্য কোনো প্রোগ্রামেবল বা উন্নত ফিচারযুক্ত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না।
বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, পরীক্ষার হলে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে এই সীমিত ক্যালকুলেটর ব্যবহারের নিয়ম চালু রাখা হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা চাইলে নির্ধারিত মডেলের পাশাপাশি সাধারণ ক্যালকুলেটরও ব্যবহার করতে পারবে।
এছাড়া নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পরীক্ষার্থীরা কাঁটাযুক্ত সাধারণ হাতঘড়ি ব্যবহার করতে পারবে। তবে প্রোগ্রামেবল বা স্মার্ট ঘড়ি ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এসব নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছে বোর্ড।
শিক্ষা বোর্ডের একাধিক সূত্র বলছে, প্রতি বছরই পরীক্ষার সময় কিছু অনিয়ম ও প্রযুক্তিগত অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। বিশেষ করে উন্নত প্রযুক্তির ক্যালকুলেটর বা স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়। এসব রোধ করতেই নির্দিষ্ট মডেলের ক্যালকুলেটর অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, পরীক্ষার পরিবেশকে সুশৃঙ্খল ও ন্যায্য রাখতে এমন নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের দক্ষতা ও জ্ঞানের প্রকৃত মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়।
অন্যদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও এই নির্দেশনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, নির্দিষ্ট মডেলের ক্যালকুলেটর ব্যবহারের নিয়ম স্পষ্ট হওয়ায় বিভ্রান্তি কমবে। আবার কেউ মনে করছেন, পরীক্ষার আগে আরও বিস্তারিত নির্দেশনা দিলে ভালো হতো।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, পরীক্ষার আগে কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হবে এবং পরীক্ষকদেরও এ বিষয়ে বিশেষভাবে অবহিত করা হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষার হলে নিয়ম লঙ্ঘন রোধে কঠোর নজরদারি থাকবে।
বোর্ডের কর্মকর্তারা আরও জানান, এসএসসি পরীক্ষা একটি জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তাই এর প্রতিটি ধাপেই শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষার্থীদের সুবিধার পাশাপাশি পরীক্ষার মান বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি পরীক্ষার নিয়মেও নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। সঠিক নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণ থাকলে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা যাচাই করা সহজ হয়।
সব মিলিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এই নতুন নির্দেশনা এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি এখন থেকে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ক্যালকুলেটর ও নিয়ম সম্পর্কে আরও সচেতন হতে হবে।