নওগাঁয়ে চার খুনের ঘটনায় স্বজনের বাড়িতে আগুন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২ বার
নওগাঁয়ে চার খুনের ঘটনায় স্বজনের বাড়িতে আগুন

প্রকাশ:  ২২ এপ্রিল  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যার ভয়াবহ ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক দুই স্বজনের একজনের বাড়িতে আগুন দিয়েছে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। বুধবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে টিনশেড একতলা বাড়ির আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেলেও সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাতে বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান (৩৫), তাঁর স্ত্রী পপি সুলতানা এবং তাঁদের দুই সন্তান পারভেজ রহমান (৯) ও সাদিয়া আক্তার (৩)কে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। মঙ্গলবার সকালে প্রতিবেশীরা ঘরে রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে।

ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সন্দেহভাজন হিসেবে নিহত হাবিবুর রহমানের ভগ্নিপতি আবদুস সামাদ ও তাঁর ছেলে সবুজ রানাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে আটক দুই ব্যক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার সকালে এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের একটি অংশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং বাহাদুরপুর গ্রামে আবদুস সামাদের বাড়িতে হামলা চালায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বাড়িটিতে। আগুনে ঘরের টিনশেড কাঠামোর একটি বড় অংশ, আসবাবপত্র ও গৃহস্থালির বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে যায়।

ঘটনার সময় বাড়িটিতে কেউ উপস্থিত না থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়। তবে আগুন লাগার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। তিনি আরও জানান, চারজনের হত্যাকাণ্ডে একটি মামলা হয়েছে এবং মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহত পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছিল। হঠাৎ এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে গেছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, এমন ঘটনা তারা আগে কখনও দেখেননি। শিশুদের নিথর দেহ দেখে এলাকাবাসী শোকে পাথর হয়ে যায়।

অন্যদিকে আটক আবদুস সামাদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদল স্থানীয় মানুষ ক্ষোভে এই ঘটনা ঘটালেও অনেকে মনে করছেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত হয়নি। তাদের মতে, এ ধরনের সহিংসতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। জমিজমা বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে নিহত পরিবারের স্বজনরা এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত ও নির্মম বলে দাবি করেছেন। তারা বলেন, একটি পরিবারকে এভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনার পর এলাকায় শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে, তাই সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। কোনো ধরনের সহিংসতা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করবে।

বর্তমানে পুরো বাহাদুরপুর গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ ও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। নিহত চারজনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এই নির্মম ঘটনায় নওগাঁজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। প্রশাসন বলছে, ঘটনার পেছনের সব রহস্য উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত