যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬৬ বার

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২৫ রবিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাজ্য তার অভিবাসন নীতিতে সবচেয়ে কঠোর সংস্কারের পথে এগোচ্ছে। আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য স্থায়ীভাবে দেশটিতে বসবাসের সুযোগ পেতে এখন অপেক্ষা করতে হতে পারে দীর্ঘ ২০ বছর। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে এই পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন। তার মতে, নতুন নীতির লক্ষ্য হলো যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে প্রবেশ ঠেকানো এবং আশ্রয় ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও নিবিড়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।

বিগত বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যের উপকূলে ছোট নৌকায় করে আসা অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সরকার তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিরোধী দল এবং জনমতের একটি বড় অংশ সরকারের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলে আসছে। সেই চাপের মধ্যেই নতুন অভিবাসন নীতি গঠনের পথে এগোচ্ছে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রাপ্ত একজন ব্যক্তি পাঁচ বছর পর্যন্ত শরণার্থী মর্যাদা পান। এই সময়কাল শেষে তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকার আবেদন করতে পারেন। তবে নতুন নীতিতে এই পুরো ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে সরকার। সর্বপ্রথম শরণার্থী মর্যাদার সময়কাল পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে আড়াই বছর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে প্রত্যেক আশ্রয়প্রার্থীর অবস্থা আরও কঠোরভাবে পর্যালোচনা করা যায়। এর ফলে শরণার্থী মর্যাদা পাওয়া আগের মতো দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা আর থাকছে না; বরং প্রত্যেক আড়াই বছর পর পর তাদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

এ ছাড়া যেসব আশ্রয়প্রার্থী মনে করছেন যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ মেয়াদে থাকার সুযোগ পাবেন, তাদের জন্য অপেক্ষার সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে পূর্ণ ২০ বছর করার প্রস্তাব এসেছে। সরকার বলছে, এই দীর্ঘ সময় তাদের নিজ দেশ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি না তা জানার সুযোগ তৈরি করবে। যদি দেখা যায় কোনো দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাস বা নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ আরও কঠোর এবং দীর্ঘায়িত হতে যাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ তার বক্তব্যে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের প্রবণতা কমানো। তিনি বলেন, অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে আসতে চেষ্টা করেন। নতুন নীতি জনসাধারণকে একটি বার্তা দেবে—এই পথে এলেও স্থায়ীভাবে থাকার নিশ্চয়তা নেই, বরং দীর্ঘ অপেক্ষা ও কঠোর পর্যালোচনার মধ্য দিয়েই যেতে হবে। তার মতে, এই বার্তাটি সম্ভাব্য অবৈধ অভিবাসীদের নিরুৎসাহিত করবে।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ অভিবাসন যুক্তরাজ্যের সমাজকে বিভক্ত করে তুলছে। এর ফলে জনমতের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে এবং রাজনৈতিক বিভাজনও তীব্র হচ্ছে। দেশকে এক রাখতে হলে অবৈধভাবে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এই সমস্যা এখনই সমাধান না করা হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও গভীর বিভাজন সৃষ্টি হতে পারে।

এই নীতি পরিবর্তন যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ তৈরি করেছে। মানবাধিকার সংগঠন, অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ও কিছু আইনজীবী ইতোমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, আশ্রয়প্রার্থীদের দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তায় রাখা মানবিক দিক থেকে কষ্টকর এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এ ছাড়া শরণার্থী মর্যাদার ওপর ঘন ঘন পর্যালোচনার কারণে অনেকেই মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন।

অন্যদিকে সরকারপক্ষ বলছে, যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই চাপে রয়েছে। নতুন নীতি দেশের সীমানা নিয়ন্ত্রণ, আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। তারা মনে করছেন, কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়।

অভিবাসন প্রশ্নে যুক্তরাজ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবুও সরকার ঘোষণা দিয়েছে, তারা এই পরিকল্পনার বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ অভিবাসন নীতি কোন পথে যাবে—তা আগামী মাসগুলোতেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তবে এতদিনের তুলনায় বেশি কঠোর এবং দীর্ঘমেয়াদি এক বাস্তবতা সামনে আসছে—এটা এখন প্রায় নিশ্চিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত