একদিনে ৪১০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২১ বার
ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু বৃদ্ধি, হাসপাতালে ভর্তি ১,১৩৯

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা একদিনে তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪১০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে সুখবর হলো, একদিনে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা শহরের বাইরের জেলা, চট্টগ্রাম, বরিশাল এবং ময়মনসিংহ বিভাগে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। বরিশাল বিভাগে ৩৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩৭ জন, ঢাকা শহরের বাইরে ৯৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১০২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৮ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৩১ জন রোগী নতুন ভর্তি হয়েছেন। এই সংখ্যাগুলি থেকে দেখা যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং রাজধানী ও প্রধান শহরগুলোতে রোগীর চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি।

একই সময়ে, হাসপাতাল থেকে ৪৩৩ জন রোগী ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৯০ হাজার ৬৫২ জন রোগী। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যাচ্ছে, দেশে ডেঙ্গু চিকিৎসার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে, তবে রোগের প্রকোপ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ।

এ বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৯৩ হাজার ১৯৪ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ৩৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, ডেঙ্গু এখনও দেশের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে বিরাজমান। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই রোগ থেকে রক্ষা পেতে জনসাধারণকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে, পোকামাকড়ের প্রজনন স্থান দূর করতে হবে এবং হাসপাতালের পরামর্শ অনুযায়ী সময়ে সময়ে চিকিৎসা নিতে হবে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। নগরীর পানির জমে থাকা স্থান পরিষ্কার করা, ফ্লাইপুাম্প ও ড্রেনেজ সিস্টেম নিয়মিত পরিচ্ছন্ন রাখা, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাড়িতে নিজস্ব পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এসব প্রচেষ্টার অংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমাতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।

রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে শয্যা ও চিকিৎসা সামগ্রী যথেষ্ট রাখার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সম্প্রতি রোগী ভর্তি সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ জনগণকে নিয়মিত পানি জমে থাকা স্থানগুলো পরিস্কার রাখতে হবে। এছাড়া, মশার বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়ানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণ যেমন জ্বর, শরীর ব্যথা, চোখ লাল হওয়া, ত্বকে র‍্যাশ বা ফোসকা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে আসা প্রয়োজন। চিকিৎসা দ্রুত শুরু হলে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে যায় এবং রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আরও বাড়ার প্রবণতা রয়েছে। তাই দেশের বিভিন্ন জেলা, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও ময়মনসিংহে সতর্কতা অবলম্বন অপরিহার্য। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জনগণকে বারবার সতর্ক করেছে যে, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং আক্রান্ত এলাকায় দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনও দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিরাজ করছে। একদিকে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে জনগণকে রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং ব্যক্তিগত ও পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই একমাত্র কার্যকর পদ্ধতি, যা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

এই একদিনের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখনো ডেঙ্গু মোকাবেলায় সক্রিয় এবং রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ায় সক্ষম, তবে চলমান মৌসুমে সতর্কতা অবলম্বন না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। জনগণকে স্বাস্থ্য সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে সময়মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনগণের সচেতনতা এবং সরকারের কার্যক্রম একযোগে কাজ করলে দেশের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, নিজস্ব বাড়ি ও আশেপাশের এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, পানি জমে থাকা স্থান পরিস্কার রাখা, মশার ডিম ও লার্ভা ধ্বংস করা এবং প্রয়োজনমতো হাসপাতালের পরামর্শ নেওয়া আজকের দিনেও ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত