জয়পুরহাট একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৩ বার

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের বড় মাঝি পাড়া গ্রামে সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিকেল গড়িয়ে গেলে নেমে আসে নিস্তব্ধতা। গ্রামের বাড়ি নিথর হয়ে শুয়ে থাকা মা ও মেয়ে এবং হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করা নাতির ঘটনায় সমগ্র পরিবার ও গ্রামের মানুষদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাত্র সাড়ে ১৭ ঘণ্টার ব্যবধানে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় এক বিরাট ধাক্কা সৃষ্টি করেছে।

বড় মাঝি পাড়া গ্রামের সালেহা বেগম (৬৫) এবং তার মেয়ে বিলকিস বেগম (৩৮) সোমবার দুপুরে হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনা ঘটে এমন সময়, তাদের নাতি তুহিন হোসাইন (২৫) রোববার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মা-মেয়ে দুজনের মৃত্যুর মাঝে সময়ের ব্যবধান মাত্র ৩৫ মিনিট। মৃতদেহগুলো বিকেলে বাড়িতে পৌঁছালে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।

স্থানীয়রা জানান, সালেহা বেগম ছিলেন মৃত খাজা মদ্দিনের স্ত্রী। তার মেয়ে বিলকিস বেগম দীর্ঘ সময় জর্ডানে প্রবাসে ছিলেন এবং তিন বছর আগে দেশে ফেরেন। তুহিন হোসাইন জয়পুরহাট সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন।

গ্রামবাসী ও স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিলকিসের শাশুড়ি শেফালী বেগম ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। বিলকিস তার শাশুড়ির দেখাশোনা করতে গিয়ে নিজেও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন এবং রোববার সকালে তাকে হাসপাতলে ভর্তি করা হয়। একই সময়ে সালেহা বেগমও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, মা ও মেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন না, বরং শ্বাসকষ্টে তাদের মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক জুয়েল বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি দুইজন মা-মেয়ে মারা গেছেন, তারা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন না, শ্বাসকষ্টে মৃত্যুবরণ করেছেন। তারা ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন না।’

বাড়িতে ফিরে আসা মরদেহের দৃশ্য পরিবার ও স্বজনদের জন্য এক অসহনীয় মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়। স্ত্রীর এবং শাশুড়ির মরদেহের পাশে বসে থাকেন বিলকিসের স্বামী ছানোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার মা, স্ত্রী ও শাশুড়ি তিনজনই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। আমার মা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু আজ আমার শাশুড়ি ও স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩৫ মিনিটের ব্যবধানে মারা গেলেন। এর আগে রোববার রাতে হাসপাতালে আমার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের ছেলে তুহিন মারা গেছেন।’

প্রতিবেশী রুবেল হোসেন জানান, ‘মাত্র ১৭ ঘণ্টার ব্যবধানে একই পরিবারের তিনজন মারা গেছেন। এর মধ্যে দুজন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। এমন হৃদয় বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’

স্থানীয়রা আরও জানান, গ্রামের মানুষরা এই ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত হয়েছেন। মা, মেয়ে ও নাতির মৃত্যু একসাথে তাদের জীবনকে হতাশার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। প্রতিটি বাড়ির মানুষই তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। গৃহবাড়ির উঠানে রাখা দুটি খাটিয়ার একটিতে নিথর হয়ে শুয়ে আছেন মা, অন্য খাটিয়ায় শুয়ে আছেন মেয়ে। এ দৃশ্য দেখে গ্রামের মানুষ স্তব্ধ হয়ে গেছেন।

এই একই পরিবারের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনও উদ্বিগ্ন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, তারা মৃতদেহগুলো পর্যালোচনা করেছেন এবং প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে মা-মেয়ে দুজন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন না। তবে শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

উপসংহারে, জয়পুরহাটের এই হৃদয়বিদারক ঘটনা স্থানীয় ও দেশের মানুষের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। স্বজনদের আবেগ ও গ্রামের মানুষদের শোকের ছায়া এলাকায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। চিকিৎসা ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি না হলে এই ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি হতে পারে, তাই স্বাস্থ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় মানুষদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত