যশোরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃদ্ধি পাচ্ছে এইচআইভি আক্রান্ত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৬ বার
এইচআইভি বৃদ্ধি

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যশোরে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এইচআইভি বা এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সমকামী আচরণের কারণে এই প্রবণতা বেড়েছে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, এই রোগের ঝুঁকি কমানোর একমাত্র উপায় হল সচেতনতা বৃদ্ধি ও পারিবারিক ও সামাজিক নজরদারি।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যশোরে এইচআইভি ও এইডস আক্রান্তের সংখ্যা গত কয়েক বছরে তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা হাসপাতালে প্রতিদিন অন্তত ১০ জন সন্দেহভাজন রোগী পরীক্ষার জন্য আসছেন। চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ৫২ জনের মধ্যে ৪৬ জন পুরুষ এবং আটজন নারী। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো আক্রান্তদের মধ্যে ২৬ জন শিক্ষার্থী। এদের অধিকাংশের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আক্রান্ত যুবক জানিয়েছেন, “আমি কীভাবে আক্রান্ত হলাম জানি না। ছেলেদের সঙ্গে মেলামেশা করতে ভালো লাগে। একাধিক পার্টনারের কারণে হয়ত আক্রান্ত হয়েছি।” এটি যশোরের নয়, সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমকামিতার কারণে এইচআইভি আক্রান্তের একটি সাধারণ চিত্র বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

কানিজ ফাতেমা আরও বলেন, “কিশোর-কিশোরীরা কৌতূহলী হয়। ব্যতিক্রমী বিষয় নিয়ে তারা আগ্রহী হয়ে ওঠে। এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে অনেকেই এই রোগে আক্রান্ত হন। পরে চিকিৎসা নিতে আসলে তারা বুঝতে পারেন যে ভুল হয়েছে। এই ভুল তাদের জীবন ভরা প্রভাবিত করতে পারে এবং অন্যদেরও ঝুঁকিতে ফেলে।” তিনি সতর্ক করেন, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি নজরদারিতে রাখতে হবে।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, “আক্রান্তদের সরকারি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে সমস্যা সমাধানের জন্য সচেতনতার বিকল্প নেই। পারিবারিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও ধর্মীয় অনুশাসন অনেকাংশে কমে গেছে। ইন্টারনেটের অবাধ ব্যবহার, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অবহেলা—এসব কারণে আমাদের সন্তানদের ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। পরিবারের নজরদারি এবং সচেতনতা ছাড়া শিশু ও কিশোরদের এই রোগ থেকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, “সন্তানদের ইন্টারনেট ব্যবহারে সতর্কতা, সামাজিক ও ধর্মীয় জ্ঞানে উদ্বুদ্ধ করা, এবং প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং কার্যক্রম অপরিহার্য। না হলে এইডসের মতো মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হবে।”

সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যশোরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের এআরটি (অ্যান্টি-রেট্রোভাইরাল থেরাপি) সেন্টারে মোট ২৪৮ জন এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন।

চিকিৎসকরা মনে করছেন, যশোরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সংক্রমণ রোধে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পরিবার, স্কুল, সমাজ ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান একত্রিতভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়ে এই রোগের বিস্তার রোধ করতে পারে। পাশাপাশি, আক্রান্তদের জন্য কাউন্সেলিং ও চিকিৎসার মান উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

যশোরে এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি শুধু একটি স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, এটি সামাজিক ও নৈতিক সমস্যারও প্রতিফলন। তাই সচেতনতা, শিক্ষা ও সম্প্রদায়ভিত্তিক তদারকি ছাড়া এই চিত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত