বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত, বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত পেছালো

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬০ বার
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। হাসপাতাল সূত্র ও পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা গত কয়েকদিনের মতোই ‘অপরিবর্তিত’ রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি না হলেও বড় কোনো অবনতিও হয়নি। এ পরিস্থিতিতে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সবকিছু নির্ভর করছে মেডিকেল বোর্ডের সর্বশেষ মূল্যায়নের ওপর।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রায় ১৬ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকা খালেদা জিয়াকে ১২ দিন আগে সিসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তার শারীরিক অবস্থা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞ মিলিয়ে একটি শক্তিশালী মেডিকেল বোর্ড প্রতিদিনই তার চিকিৎসা পরিকল্পনা ও শারীরিক প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন করছে। সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার তদারকিতে প্রতিনিয়ত হাসপাতালে অবস্থান করছেন তার পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভোগার কারণে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। হৃদরোগ, লিভার ও কিডনির দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা এবং সাম্প্রতিক ফুসফুসে সংক্রমণ তাকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। এর সঙ্গে রয়েছে হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট ও পেসমেকারের বিষয়টিও। এ ধরনের জটিলতা থাকা অবস্থায় দীর্ঘ বিমানযাত্রা তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে কি না, সেটি নিয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি চিকিৎসকরা।

তাই বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও তা আপাতত পিছিয়ে গেছে। চিকিৎসকরা মনে করেন, বেগম জিয়ার অবস্থাকে আপাতত স্থিতিশীল করতে হবে। তারপরই মূল্যায়ন করা হবে তিনি বিমানযাত্রার উপযোগী কি না। পরিবারের সদস্যরাও বলেছেন, চিকিৎসা সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া হবে। কেউই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তে যেতে চান না।

এদিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। সরকার তাকে ভিভিআইপি হিসেবে ঘোষণা করে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। এসএসএফের সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার বাড়তি নজরদারি রয়েছে। হাসপাতালে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে; পাশাপাশি তার চিকিৎসায় ব্যবহৃত সিসিইউয়ের আশপাশের কেবিনও খালি রাখা হয়েছে।

চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি নেতারা নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। দলের সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, দলের চেয়ারপারসনের অবস্থা নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। তারা দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে বলেছেন, বেগম জিয়ার সুস্থতা শুধু দলের নেতা–কর্মীদের নয়, দেশের গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও জড়িত। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের বলেন, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয়ে। তিনি দেশবাসীকে বেগম জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।

বিএনপির আরও কয়েকজন নেতা বলেন, দেশের যে কোনো মানুষের মতোই বেগম জিয়া একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি একজন মা, একজন প্রবীণ নারী। তার সুস্থতা নিয়ে মানুষের আন্তরিক উদ্বেগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার আরোগ্য কামনা করে হাজার হাজার শুভকামনা বার্তা ছড়িয়েছে। বিরোধী দল, ভিন্ন রাজনৈতিকমতের অনেক মানুষও তাকে নিয়ে সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন।

এমন একটি সময়ে, যখন রাজনীতিতে নানা উত্তেজনা, অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বিদ্যমান, তখন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ওপর শুধু দল নয়, দেশের মানুষের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে। বিদেশে তাকে নেওয়া হবে কি না—এই প্রশ্নে নানা আলোচনা চলছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, আপাতত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের বর্তমান ধাপটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেগম জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে। তারা চিকিৎসকদের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখছেন। দলের নেতারা বলেছেন, ধৈর্য সবচেয়ে জরুরি, কারণ অবস্থা স্থিতিশীল না হলে বিদেশ নেওয়ার ঝুঁকি নেওয়া যায় না।

বর্তমানে যা নিশ্চিত, তা হলো—বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কিছুটা জটিল হলেও স্থিতিশীল। তার উন্নত চিকিৎসা, পর্যবেক্ষণ এবং মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তই আগামী দিনগুলো নির্ধারণ করবে। এ মুহূর্তে দলের নেতারা যে আশার আলো দেখছেন, তা হলো—তিনি এখনো ঝুঁকির বাইরে আছেন এবং চিকিৎসা সাড়া দিচ্ছেন। তাদের প্রত্যাশা—দেশবাসীর দোয়া ও চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত