ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৪১১

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৩ বার
ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্ত

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ডেঙ্গুর মারণ থাবায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৪১১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ দেশের অন্যান্য বিভাগে ডেঙ্গু ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) সবচেয়ে বেশি, ৯৯ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ৭০ জন, ঢাকা বিভাগের অন্যান্য অঞ্চলে ৫৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬১ জন, বরিশাল বিভাগে ৫০ জন, খুলনা বিভাগে ২৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন, রাজশাহী বিভাগে ২১ জন, রংপুরে ২ জন এবং সিলেটে ৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছরের হিসেবে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪০৪ জন মারা গেছেন। সারাদেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৯৯ হাজার ৪৯৩ জনে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭৫ জনে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনও কমেনি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। মশার প্রজনন রোধ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণে দ্রুততার সাথে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ঢাকার সিটি করপোরেশনগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে।

গত বছর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে মোট ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই সময় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হন মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। তুলনামূলকভাবে ২০২৪ সালে সংক্রমণ এবং মৃত্যু কিছুটা কমলেও ডেঙ্গু এখনো জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ও মনিটরিং ব্যবস্থা সব হাসপাতালে জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া জনগণকে মশার প্রজনন রোধ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা, পানির স্থায়ী জমা ঠেকানো এবং যেকোনো অসুস্থতার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ জনগণকে একযোগে সচেতন হতে হবে। এভাবে দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

ডেঙ্গুর বিষয়টি শুধু স্বাস্থ্য সংকট নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও ফেলছে। হাসপাতালে ভর্তির চাপ, চিকিৎসা ব্যয়, কর্মক্ষম জনসংখ্যার অসুস্থতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রভাব ইত্যাদি দেশের সার্বিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনগণকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

চলতি বছর ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার সিটি করপোরেশনে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে যেখানে ডেঙ্গুর প্রজনন কেন্দ্র ধ্বংস করা, স্যানিটেশন ব্যবস্থা জোরদার করা এবং মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।

সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, ডেঙ্গু এখনও নিয়ন্ত্রণযোগ্য হয়নি এবং বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জনগণকে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি বাড়ির আশপাশে মশা নিধন কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানাচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত