প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী তারিনী বর্মন ও ইতি রানী প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পীরগঞ্জ-বীরগঞ্জ সড়কের কমোর রাইস মিল সংলগ্ন এলাকায় একটি ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষের সঙ্গে মোটরসাইকেলের আরোহী গুরুতর আহত হন।
মোটরসাইকেল আরোহী দম্পতিকে দ্রুত বীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তারিনী বর্মনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত স্ত্রী ইতি রানীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত তারিনী বর্মন উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের রুহিলা গ্রামের মৃত জিতেন্দ্র নাথ বর্মনের ছেলে।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের বর্ণনা অনুযায়ী, বুধবার সকালে তারিনী বর্মন স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি থেকে বের হন। কমোর রাইজ মিল সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া ট্রাক্টর তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তারিনীর মৃত্যু হয়। তার স্ত্রী ইতি রানীকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। নিহত দম্পতির একটি তিন বছরের ছেলে রয়েছে।
বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন, দুর্ঘটনায় ট্রাক্টর চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। তবে ট্রাক্টর এবং মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বীরগঞ্জ-পীরগঞ্জ সড়কের এই অংশে যানবাহনের দ্রুতগতি এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড না মেনে চলার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিনিয়ত এই সড়কে বেপরোয়া ট্রাক ও ট্রাক্টরের চলাচল সাধারণ মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বিশেষত শিশু, মহিলাদের জন্য এই রাস্তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে তারা উল্লেখ করেছেন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সচেতন হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়কে নিয়মিত টহল বাড়ানো এবং বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। তবে স্থানীয়দের দাবি, সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ ও ট্রাফিক আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এই দুর্ঘটনা পরিবার ও এলাকার মানুষের জন্য শোকের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগীরা নিহত দম্পতির পরিবারকে সহমর্মিতা জানিয়েছেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণসহ সঠিক সহায়তা প্রদানের দাবি তুলেছেন।
নিহত তারিনী বর্মন মহুগাঁও বাজারের একজন পরিচিত কসমেটিকস ব্যবসায়ী ছিলেন। তার স্ত্রী ইতি রানীও এলাকার মানুষের কাছে পরিচিত। তাদের মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের সন্তান এখনও খুব ছোট এবং তার দেখভাল নিয়ে পরিবার গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছে।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও অবকাঠামোগত পরিবর্তন না হলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা চলতেই থাকবে। এই দুর্ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।