প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করার লক্ষ্যে তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি। তার এই সফরের মাধ্যমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থান ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ তৈরি হবে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য তিন দিনব্যাপী আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে অংশ নেবেন। এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে এই ফোরামে আলোচনা হয়ে থাকে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের অবস্থান তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ। বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ যে বহুপাক্ষিক কূটনীতি অনুসরণ করছে, তা আরও সুদৃঢ়ভাবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে এই সফরের মাধ্যমে।
আন্তালিয়া সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পরবর্তী গন্তব্য বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস। সেখানে তিনি বাংলাদেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। প্রস্তাবিত এই চুক্তির নাম ‘কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ অ্যান্ড কো-অপারেশন’। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্য, উন্নয়ন সহযোগিতা, অভিবাসন এবং বিভিন্ন কৌশলগত বিষয়ে সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এই ধরনের কাঠামোগত অংশীদারিত্ব চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত, রপ্তানি বাণিজ্য এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ব্রাসেলস সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে ফেরার পথে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় যাত্রাবিরতি করবেন। সেখান থেকে তিনি ২৪ এপ্রিল দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এই সফরসূচি অনুযায়ী তার বিদেশ সফরটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সমন্বিত একটি কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই ধরনের বহুপাক্ষিক ফোরাম ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্রিয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্বব্যাপী পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ তার অবস্থান শক্তিশালী করতে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংলাপ ও আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে পরিবর্তন দ্রুত ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেই কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সফর নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্রিয় উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন চুক্তি দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
অন্যদিকে আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামেও বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক আলোচনায় দেশের ভূমিকা তুলে ধরবে বলে আশা করা হচ্ছে। বৈশ্বিক সংকট, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং উন্নয়ন কৌশল নিয়ে এই ধরনের ফোরামগুলোতে অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে।
সব মিলিয়ে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বহুমুখী বিদেশ সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, নতুন চুক্তি স্বাক্ষর এবং বৈশ্বিক ফোরামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়েই এই সফর পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।