পর্যটন খাত উন্নয়নে ডিসিদের নির্দেশনা দিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬
  • ৬১ বার
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের বৈঠক শেষে তিনি এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্ববাসীর সামনে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে জেলা প্রশাসকদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে আরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ডিসিদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, দেশের বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য সরকার বেশ কিছু বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে আগামী তিন মাসের মধ্যে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের মধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও পর্যটন শিল্পকে আরও গতিশীল করতে পরিত্যক্ত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও, নীলফামারীর সৈয়দপুর, বগুড়াসহ মোট আটটি বিমানবন্দর পর্যায়ক্রমে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পর্যটন খাতের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও অবকাঠামো, প্রচার ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। নতুন উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

এদিকে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী জানান, দেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী সম্পদ সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, নতুন করে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পাশাপাশি পুরোনো শিল্পকলা ভবন ও লাইব্রেরিগুলোর সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষিত থাকে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পর্যটন ও সংস্কৃতি খাত একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। একদিকে পর্যটন উন্নয়ন হলে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হয়, অন্যদিকে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। তাই দুই খাতের সমন্বিত উন্নয়ন দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ইতোমধ্যেই বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, পরিবহন সুবিধা এবং মানসম্মত সেবার অভাবে অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়নি। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে পর্যটন খাতকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্র সৈকত, পাহাড়, বনাঞ্চল ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোকে কেন্দ্র করে নতুন পর্যটন রুট তৈরি করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

সব মিলিয়ে ডিসি সম্মেলনের এই বৈঠক দেশের পর্যটন খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রশাসনিক পর্যায়ে নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত