দেশে এসেছে ১৫ লাখ ডোজ হাম ভ্যাকসিনঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ১০ বার
বাংলাদেশ টিকা আগমন হাম

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকাদান কর্মসূচিকে আরও জোরদার করতে বড় অগ্রগতি হিসেবে ১৫ লাখ ডোজ হামের প্রতিষেধক টিকা দেশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে টিটেনাস প্রতিরোধে ব্যবহৃত আরও ৯০ হাজার ডোজ টিকা দেশে এসেছে বলেও তিনি জানান।

বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই এসব জীবনরক্ষাকারী টিকা দেশে আনা সম্ভব হয়েছে, যা সরকারের কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

তিনি বলেন, মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে এই বিশাল পরিমাণ টিকা দেশে আনা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমে বাংলাদেশের অগ্রগতিকে নির্দেশ করে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের প্রতিটি শিশুকে প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখা এবং টিকাদান কর্মসূচিকে শতভাগ সফল করা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, হাম একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যা শিশুদের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। সময়মতো টিকা গ্রহণ না করলে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই পর্যাপ্ত টিকা মজুত নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি চলমান রয়েছে এবং এই নতুন চালান সেই কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সব জায়গায় শিশুদের কাছে টিকা পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক সরবরাহ চ্যানেলের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই টিকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে সময়মতো টিকা দেশে আনা সম্ভব হয়েছে, যা ভবিষ্যতের টিকাদান কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হামের মতো রোগ নিয়ন্ত্রণে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ উপায়। দেশের শিশু মৃত্যুহার কমাতে এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে এই ধরনের টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তারা আরও বলেন, টিকা সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ কমে আসে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ প্রতিরোধ সম্ভব হয়। ফলে হাসপাতাল ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয় না।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, আগামী দিনে আরও টিকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রতিষেধক নিয়মিতভাবে সংগ্রহ ও বিতরণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে টিটেনাস প্রতিরোধী টিকা ৯০ হাজার ডোজ দেশে আসাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিটেনাস একটি গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা সময়মতো প্রতিরোধ না করলে প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই এই টিকার সরবরাহও জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু টিকা সংগ্রহই নয়, বরং তা সঠিকভাবে বিতরণ এবং জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন যাতে কোনো শিশু বা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি টিকাদান থেকে বাদ না পড়ে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিরোধযোগ্য রোগ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা। সেই লক্ষ্যে নিয়মিত টিকাদান, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশ টিকাদান কর্মসূচিতে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তবে জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলের কারণে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

তারা বলেন, সময়মতো টিকা সরবরাহ এবং সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে হামসহ অনেক প্রতিরোধযোগ্য রোগ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

সরকারি পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, দেশের স্বাস্থ্যখাতে টিকাদান কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এটি দীর্ঘমেয়াদে বড় ভূমিকা রাখবে।

সব মিলিয়ে ১৫ লাখ ডোজ হামের টিকা এবং ৯০ হাজার ডোজ টিটেনাস টিকার আগমন দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও বাড়াবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত