প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই শিরোপা জয়ের স্বাদ পেলেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা। তার দল পেশোয়ার জালমি ফাইনালে হায়দরাবাদ কিংসম্যানকে ৫ উইকেটে পরাজিত করে শিরোপা নিশ্চিত করে। দীর্ঘ সাত বছর পর আবারও ট্রফি ঘরে তুলল পেশোয়ার জালমি, যা দলের সমর্থকদের জন্য এক আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
লাহোরে অনুষ্ঠিত ফাইনালে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে হায়দরাবাদ কিংসম্যান। নির্ধারিত ১৮ ওভারে তারা ১২৯ রানে অলআউট হয়। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন সাইয়ুম, যিনি একপ্রান্তে দৃঢ় ব্যাটিং করে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পতনের কারণে বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি।
পেশোয়ার জালমির বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করেন। বিশেষ করে তরুণ পেসার নাহিদ রানা তার গতিময় ও আগ্রাসী বোলিং দিয়ে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন। শুরুতে কিছুটা খরুচে হলেও পরে তিনি দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান এবং ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। তার গতি, বাউন্স এবং নিখুঁত ইয়র্কার ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
নাহিদ রানার প্রথম ওভারে কিছুটা রান খরচ হলেও পরবর্তী ওভারগুলোতে তিনি আরও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। বিশেষ করে তার একটি মেডেন ওভারে মাত্র ৯ রান খরচ করে প্রতিপক্ষের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেন, যার মধ্যে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এবং হুনাইন শাহর উইকেট উল্লেখযোগ্য। এই স্পেলই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
হায়দরাবাদের ইনিংস শেষ হওয়ার পর ১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামে পেশোয়ার জালমি। শুরুতে কিছুটা চাপ থাকলেও মিডল অর্ডারের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দলটি। অ্যারন হার্ডি ৫৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন এবং আব্দুল সামাদ ৪৮ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাদের জুটিতেই ২৮ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত হয় পেশোয়ার জালমির।
এই জয়ের মাধ্যমে পেশোয়ার জালমি ২০১৭ সালের পর প্রথমবার পিএসএল শিরোপা জিতল। দীর্ঘ সময় পর পাওয়া এই সাফল্য দলের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি সমর্থকদের জন্যও এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশি পেসার নাহিদ রানার পারফরম্যান্স নিয়ে ইতোমধ্যেই ক্রিকেট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে তার এই সাফল্য বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে উচ্চগতির বোলিং এবং চাপের মুহূর্তে উইকেট নেওয়ার দক্ষতা তাকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় তারকা হিসেবে আরও প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নাহিদ রানার নিয়ন্ত্রিত বোলিং পেশোয়ার জালমির জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে মাঝের ওভারে তার উইকেট শিকার প্রতিপক্ষকে বড় স্কোর গড়তে দেয়নি।
পেশোয়ার জালমির অধিনায়ক এবং টিম ম্যানেজমেন্টও নাহিদ রানার পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা মনে করেন, তরুণ এই পেসার ভবিষ্যতে দলের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠবেন।
বাংলাদেশে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যেও নাহিদ রানার এই অর্জন নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রশংসায় ভাসছেন ভক্তরা, যেখানে অনেকেই তাকে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক তারকা হিসেবে দেখছেন।
সব মিলিয়ে পিএসএলের এবারের আসর পেশোয়ার জালমির জন্য যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি নাহিদ রানার ক্যারিয়ারের জন্যও একটি বড় মাইলফলক হয়ে রইল। তার এই সাফল্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেস বোলিং শক্তির নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।