পশ্চিমবঙ্গে গণনায় এগিয়ে বিজেপি, চাপে তৃণমূল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬
  • ২ বার
পশ্চিমবঙ্গে গণনায় এগিয়ে বিজেপি, চাপে তৃণমূল

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই চরমে পৌঁছেছে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই গণনায় প্রাথমিক প্রবণতাই ইঙ্গিত দিচ্ছে এক নাটকীয় রাজনৈতিক লড়াইয়ের। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এগিয়ে রয়েছে ১৪৮টি আসনে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এগিয়ে ১০৩ আসনে।

স্থানীয় সময় সকাল ৮টায়, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হয় ভোট গণনা। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রাজ্যের বিভিন্ন গণনাকেন্দ্রে ইভিএমে দেওয়া ভোট গণনা শুরু হয়, পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালটের গণনাও চলছে। প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যে প্রবণতা সামনে এসেছে, তা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচন শুধু একটি রাজ্যের সরকার গঠনের লড়াই নয়, বরং এটি জাতীয় রাজনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এটি এক বড় পরীক্ষা, অন্যদিকে বিজেপির জন্য এটি বহু প্রতীক্ষিত একটি সুযোগ—রাজ্যের ক্ষমতায় নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার।

মোট ২৯৪টি আসন নিয়ে গঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের দিনগুলোতে বেশ কিছু জায়গায় উত্তেজনা ও সহিংসতার খবর এলেও সামগ্রিকভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্র নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী অনিয়ম ও অপরাধের অভিযোগে ভারত নির্বাচন কমিশন ওই কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে দেয়। সেখানে আগামী ২১ মে পুনরায় ভোটগ্রহণ হবে এবং ২৪ মে গণনা অনুষ্ঠিত হবে। ফলে সোমবারের গণনায় ওই একটি কেন্দ্র বাদে বাকি সব আসনের ফলাফল নির্ধারণ করা হচ্ছে।

বর্তমান প্রবণতা অনুযায়ী বিজেপি যে এগিয়ে রয়েছে, তা দলটির জন্য বড় ধরনের মনোবল বাড়ানোর বিষয়। গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছে দলটি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সক্রিয় অংশগ্রহণ, তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ এবং শক্তিশালী প্রচারণা—সব মিলিয়ে এবার তারা একটি বড় পরিবর্তনের আশায় মাঠে নেমেছিল।

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এই নির্বাচন অনেকটা অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১১ সালে বামফ্রন্টকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে রাজ্যে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে দলটি। দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর স্লোগানকে সামনে রেখে রাজ্যে উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের আস্থা ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। তবে এবারের নির্বাচনে বিজেপির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গণনা কেন্দ্রগুলোতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত রয়েছেন, যাতে গণনা প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়।

সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ফলাফলের আপডেট প্রকাশ হতে থাকে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক—সবার চোখ এখন পশ্চিমবঙ্গের দিকে। চায়ের দোকান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অফিস কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই নির্বাচন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক এই ফলাফল চূড়ান্ত ফলাফলের প্রতিফলন নাও হতে পারে। কারণ, বিভিন্ন অঞ্চলের ভোট গণনার ধরণ ও সময় ভিন্ন হওয়ায় শেষ পর্যন্ত চিত্র বদলাতে পারে। তবে শুরুতেই বিজেপির এগিয়ে থাকা তাদের সম্ভাবনাকে অনেকটাই জোরালো করে তুলেছে।

একই সঙ্গে এই নির্বাচন ভারতের অন্যান্য রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরালা, আসাম এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে এপ্রিলজুড়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজকের ফলাফল থেকেই বোঝা যাবে, কোন রাজ্যে কোন দল সরকার গঠন করতে যাচ্ছে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের রাজনৈতিক প্রবণতা কোন দিকে যাচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। নারী ভোটারদের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই আশা করছেন, এই নির্বাচন রাজ্যের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরুতেই যে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা শেষ পর্যন্ত আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিজেপি কি সত্যিই তাদের এই এগিয়ে থাকা ধরে রাখতে পারবে, নাকি তৃণমূল ঘুরে দাঁড়িয়ে আবারও ক্ষমতায় ফিরবে—এই প্রশ্নের উত্তর পেতে এখন অপেক্ষা চূড়ান্ত ফলাফলের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত