বক্স অফিসে ঝড় তুলল ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬
  • ২ বার
বক্স অফিসে ঝড় তুলল ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হলিউডের বক্স অফিসে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ডিজনির বহুল প্রতীক্ষিত সিক্যুয়েল সিনেমা ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’। মুক্তির প্রথম সপ্তাহ শেষ না হতেই বিশ্বজুড়ে সিনেমাটি আয়ের দিক থেকে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সিনেমাটি মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ২৩৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে, যা চলতি বছরের অন্যতম বড় ওপেনিং হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০০৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম পর্ব ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’ বিশ্বজুড়ে যে সাংস্কৃতিক প্রভাব তৈরি করেছিল, তার তুলনায় এই সিক্যুয়েলটি দর্শক প্রতিক্রিয়ায় আরও বেশি বিস্তৃত সাড়া ফেলেছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে ফ্যাশন, কর্পোরেট ড্রামা এবং চরিত্রভিত্তিক গল্প বলার ধারা নতুনভাবে উপস্থাপনের কারণে সিনেমাটি তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্ক—দুই ধরনের দর্শকের কাছেই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেই সিনেমাটির শুরুটা ছিল দৃষ্টিনন্দন। প্রথম সপ্তাহান্তেই দেশটিতে আয় দাঁড়ায় প্রায় ৭৭ মিলিয়ন ডলার, যা প্রথম কিস্তির তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি বলে জানানো হয়েছে। এই শক্তিশালী ওপেনিংয়ের মাধ্যমে এটি বছরের বক্স অফিসে চতুর্থ সর্বোচ্চ সূচনার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ের প্রতিযোগিতামূলক চলচ্চিত্র বাজারে এমন সাফল্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে ডিজনির টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি স্টুডিওস। নির্মাণ ব্যয় ছিল প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। পরিচালক ডেভিড ফ্র্যাঙ্কেল জানিয়েছেন, এই বাজেটের বড় অংশই ব্যয় করা হয়েছে তারকা অভিনেতাদের পারিশ্রমিক, সেট ডিজাইন এবং উচ্চমানের প্রোডাকশন ভ্যালু নিশ্চিত করতে। তার মতে, দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সিনেমাটির গল্পে ফিরিয়ে আনা হয়েছে দুই দশক আগে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা চরিত্রগুলোকে। ফ্যাশন ম্যাগাজিন ও কর্পোরেট বিশ্বের ক্ষমতার লড়াইকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কাহিনী এবার আরও পরিণত ও আধুনিক প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা হয়েছে। চরিত্রগুলোর ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, পেশাগত প্রতিযোগিতা এবং পরিবর্তিত সামাজিক বাস্তবতা নতুনভাবে গল্পে যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই সিক্যুয়েলে আবারও দেখা যাচ্ছে মেরিল স্ট্রিপ এবং অ্যান হ্যাথাওয়েকে, যারা তাদের আগের চরিত্রেই ফিরে এসেছেন। তাদের অভিনয় দর্শকদের মধ্যে পুরনো স্মৃতি জাগিয়ে তুলছে এবং একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের দর্শকদেরও আকৃষ্ট করছে। বিশেষ করে তাদের মধ্যকার টানাপোড়েন ও সংলাপভিত্তিক দৃশ্যগুলো সিনেমাটির আবেগী দিককে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মত সমালোচকদের।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের ধারণা, সিনেমাটির সাফল্যের পেছনে নারীকেন্দ্রিক দর্শকের বড় ভূমিকা রয়েছে। ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির বাস্তবতা, কর্মক্ষেত্রে নারীর অবস্থান এবং ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে নির্মিত গল্পটি অনেক দর্শকের সঙ্গে গভীরভাবে সংযোগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও রিভিউও এর জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে।

বক্স অফিস বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক চলচ্চিত্র বাজারে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের প্রভাব বাড়লেও বড় বাজেটের সিনেমাগুলো এখনো প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানতে সক্ষম হচ্ছে। ‘The Devil Wears Prada 2’ সেই প্রবণতার একটি শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্র্যান্ড এবং পরিচিত চরিত্রগুলোর প্রতি দর্শকদের আগ্রহ এখনো প্রবল।

অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, সিনেমাটির সাফল্য শুধু বাণিজ্যিক দিকেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি হলিউডের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিতও বহন করছে। দীর্ঘ সময় পর একটি সিক্যুয়েল যদি এমন সাড়া ফেলতে পারে, তবে ভবিষ্যতে আরও পুরনো জনপ্রিয় সিনেমার পুনরুজ্জীবন ঘটতে পারে।

অন্যদিকে, দর্শক রেটিং অনুযায়ী সিনেমাটি চলতি বছরের অন্যতম জনপ্রিয় ড্রামেডি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে গল্পের গতি, অভিনয় এবং ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে।

তবে কিছু সমালোচকের মতে, গল্পের কিছু অংশ পূর্বানুমেয় হলেও তারকা অভিনয় এবং প্রোডাকশন কোয়ালিটি সেই দুর্বলতাকে ঢেকে দিয়েছে। তারা মনে করছেন, সিনেমাটি মূলত চরিত্র এবং আবেগের শক্তিতেই দর্শক ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’ বর্তমানে শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং একটি বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে। বক্স অফিসে এর এই অভাবনীয় সাফল্য প্রমাণ করছে যে, সঠিক গল্প, শক্তিশালী চরিত্র এবং পরিচিত ব্র্যান্ড একসঙ্গে মিলে এখনো দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী কয়েক সপ্তাহেও সিনেমাটির আয় আরও বাড়তে পারে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে এর শক্ত অবস্থানের কারণে। ফলে চলতি বছরের অন্যতম বড় বক্স অফিস হিট হিসেবে এটি নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত