প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের উত্তরাঞ্চলের বিমান যোগাযোগ ও এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলতে যাচ্ছে বগুড়া। সেখানে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের পাশাপাশি একটি ফ্লাইং একাডেমি স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
সোমবার (৪ মে) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, বগুড়ায় ফ্লাইং একাডেমি স্থাপনের বিষয়টি ইতোমধ্যে সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের পথে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ফ্লাইং একাডেমি স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আগামী ৭ তারিখে একটি উচ্চপর্যায়ের টিম বগুড়া সফরে যাবে। ওই সফরে স্থল পরিদর্শন, অবকাঠামো বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজনীয় সুবিধা যাচাই করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি খুব দ্রুতই এই একাডেমি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও জানান, শুধু বগুড়াই নয়, দেশের উত্তরাঞ্চলের আরেকটি জেলা নীলফামারীতেও একটি ছোট আকারের ফ্লাইং একাডেমি চালু রয়েছে এবং সেটিকেও আরও উন্নত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এভাবে ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এভিয়েশন প্রশিক্ষণ বিস্তৃত করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দেশে পাইলট প্রশিক্ষণের খরচ অত্যন্ত বেশি হওয়ায় অনেক মেধাবী তরুণ এই পেশায় আসতে পারেন না। ফলে এভিয়েশন খাতে দক্ষ জনবল সংকট তৈরি হয় এবং অনেক সময় বিদেশি পাইলটদের ওপর নির্ভর করতে হয়। তিনি মনে করেন, ফ্লাইং একাডেমি সম্প্রসারণ করা গেলে এই সংকট অনেকটাই কমে আসবে।
তিনি বলেন, “আমরা চাই সাধারণ পরিবারের তরুণ-তরুণীরাও যেন পাইলট হতে পারে। শুধু বিমানে নয়, আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সেও তারা কাজ করতে পারবে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে এবং এভিয়েশন খাত আরও শক্তিশালী হবে।”
সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় থাকা বিমানবন্দরগুলোর ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনেক বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত বা আংশিক ব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। সেগুলোকে পুনরায় সক্রিয় করে অভ্যন্তরীণ রুটে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে এসব বিমানবন্দরের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কাজ হাতে নেওয়া হচ্ছে। এতে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে এবং দেশের ভেতরে দ্রুত বিমান চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে।
পর্যটন খাত নিয়েও সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রতিটি জেলায় সম্ভাবনাময় পর্যটন স্থান চিহ্নিত করে সেগুলো উন্নয়নের জন্য বিদেশি সহায়তা অথবা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে উন্নয়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এতে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মনপুরা সহ দেশের বিভিন্ন দ্বীপ ও পর্যটন এলাকাকে উন্নত পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিমানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশের বিমান বহর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কিছু বিমান লিজ নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে দেশের বিমান পরিবহন খাত আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে এর কার্যক্রম শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে থার্ড টার্মিনাল প্রকল্প ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে অভ্যন্তরীণ রুটে পুনরায় চালু করার বিষয়টি সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরাঞ্চলে ফ্লাইং একাডেমি স্থাপন হলে শুধু পাইলট প্রশিক্ষণই নয়, পুরো এভিয়েশন শিল্পে একটি নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হবে। পাশাপাশি স্থানীয় তরুণদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগও বাড়বে।
এভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই উদ্যোগ দেশের বিমান পরিবহন খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ প্রশিক্ষক এবং আধুনিক অবকাঠামো।
সব মিলিয়ে বগুড়ায় ফ্লাইং একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ দেশের এভিয়েশন খাতে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা শুধু উত্তরাঞ্চল নয়, পুরো দেশের বিমান শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।