বাংলাদেশ হবে বিশ্বের শীর্ষ শিক্ষা হাবঃ শিক্ষামন্ত্রী মিলন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ১ বার
শিক্ষামন্ত্রী মিলন

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষা কেন্দ্র বা এডুকেশন হাবে পরিণত করার সক্ষমতা দেশের রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও সম্মিলিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা, ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে যৌথ কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা এডুকেশন হাব। আমাদের সেই রিসোর্স রয়েছে, মেধা রয়েছে, প্রোগ্রাম রয়েছে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমাদের ইচ্ছাশক্তি রয়েছে। এখন প্রয়োজন সম্মিলিতভাবে কাজ করে এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা।”

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা বিশাল। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া গেলে দেশটি দ্রুতই আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ের শিক্ষানীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বল্প সময়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর মতে, সেই সময় শিক্ষা খাতে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল তা দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং শিক্ষার উন্নয়নকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। একইভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার এখন শিক্ষা খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজকে বাংলাদেশে আনার বিষয়েও পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা পরিবেশ তৈরি হয়।

তিনি বলেন, এক সময় বাংলাদেশ বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করত। ভবিষ্যতেও সেই অবস্থান ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া তিনি বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরে অবদান রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, দেশের উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা খাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্টেকহোল্ডারদের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক, প্রশাসন এবং নীতিনির্ধারকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে সকল পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তবে আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্কলারশিপ ব্যবস্থা এবং ট্রাস্টভিত্তিক পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও আধুনিকতা আনা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। তারা উচ্চশিক্ষা খাতে নতুন দিকনির্দেশনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সংসদ সদস্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং শিক্ষাবিদরা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা, তরুণ প্রজন্ম এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে দেশটি শিক্ষা হাব হওয়ার উপযুক্ত সুযোগ পেতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি নীতি, গবেষণায় বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষা শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যম নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনেরও মূল চালিকাশক্তি। তাই শিক্ষার মানোন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সব মিলিয়ে সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষা কেন্দ্রে রূপান্তর করা। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন নীতিগত স্থিতিশীলতা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং শিক্ষা খাতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত