প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বিশ্বের দুই জনবহুল দেশ ভারত ও চীনে। আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া এই মহাযজ্ঞ ঘিরে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর সামনে সরাসরি ম্যাচ দেখার সুযোগ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সম্প্রচারস্বত্ব সংক্রান্ত জটিলতার কারণে।
ভারত ও চীন—দুই দেশই ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেয় না। ২০০২ সালে একবার চীন বিশ্বকাপে খেললেও ভারত এখনো পর্যন্ত কোনো আসরে জায়গা করে নিতে পারেনি। তবে মাঠে না থাকলেও এই দুই দেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বিপুল, বিশেষ করে বিশ্বকাপের সময় টেলিভিশন ও ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যাপক দর্শক টানেন তারা।
তবে এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভারতে সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। রিলায়েন্স-দ্য ওয়াল্ট ডিজনি যৌথ উদ্যোগ সম্প্রতি প্রায় ২ কোটি মার্কিন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে, যা ফিফার প্রত্যাশিত মূল্যের তুলনায় অনেক কম। ফলে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
অন্যদিকে সনি গ্রুপও ভারতের সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে আলোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত তারা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়নি বলে জানা গেছে। এতে করে ভারতের বিশাল দর্শকশ্রেণির সামনে বিশ্বকাপ সরাসরি দেখার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
চীনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বা কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফিফার চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। অথচ ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ বিশ্বকাপে ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোট দর্শনঘণ্টার প্রায় অর্ধেকই এসেছিল চীন থেকে। এ অবস্থায় বড় বাজার হয়েও চীনের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া বেশ অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এর আগে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি অনেক আগেই সম্প্রচারস্বত্ব নিশ্চিত করেছিল এবং টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই প্রচারণা ও বিজ্ঞাপন কার্যক্রম শুরু করেছিল। তবে এবার এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ বিশ্বকাপে বৈশ্বিক টিভি দর্শকের ১৭.৭ শতাংশ ছিল চীন থেকে এবং ২.৯ শতাংশ ছিল ভারত থেকে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই দুই দেশের অংশগ্রহণ ছিল আরও বেশি, যা মোট বৈশ্বিক দর্শকের ২২ শতাংশের বেশি।
বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১১ জুন। অর্থাৎ হাতে সময় মাত্র কয়েক সপ্তাহ। এই সময়ের মধ্যে সম্প্রচার চুক্তি চূড়ান্ত করা, বিজ্ঞাপন প্রস্তুত এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তোলা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার সম্প্রচার বাজারে বড় ধরনের দরকষাকষি চলছে। ফিফা শুরুতে ভারতের জন্য ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপ মিলিয়ে প্রায় ১০ কোটি ডলারের প্রত্যাশা করেছিল। তবে বাজার পরিস্থিতি ও দর্শক আচরণ বিবেচনায় সেই মূল্য নিয়ে এখন পুনর্মূল্যায়ন চলছে।
ভারতের মিডিয়া ও স্ট্রিমিং বাজারে রিলায়েন্স-ডিজনি যৌথ উদ্যোগ এখন সবচেয়ে বড় খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত। তবে তাদের সাম্প্রতিক ২ কোটি ডলারের প্রস্তাব দেখে বোঝা যাচ্ছে, তারা এখন অনেক বেশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারতীয় সময় অনুযায়ী অনেক রাত বা ভোরে সম্প্রচার হবে। ফলে দর্শকসংখ্যা কমতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই বড় বিনিয়োগে অনীহা দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে চীনে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক নানা জটিলতাও সম্প্রচার চুক্তিকে প্রভাবিত করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বিশ্বের দুই বিশাল বাজারে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে অনিশ্চয়তা ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কোটি কোটি দর্শক শেষ পর্যন্ত এই মহাযজ্ঞ সরাসরি দেখতে পারবেন কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।