প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চলতি মে মাসের প্রথম তিন দিনেই দেশে ৩১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসীদের বাড়তি অর্থ পাঠানো এবং বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধির কারণেই ধারাবাহিকভাবে এই প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মে মাসের প্রথম তিন দিনে গড়ে প্রতিদিন দেশে প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল মাত্র ৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। সে তুলনায় এবার রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৯৬৪ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রণোদনা এবং হুন্ডি প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানোর ফলেই প্রবাসীরা এখন বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের আয় বৃদ্ধি এবং নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়াও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
গত কয়েক মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবেই ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গত মার্চ মাসে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ হিসেবে রেকর্ড গড়ে। এরপর এপ্রিলে এসেছে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার।
এর আগে জানুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে আসে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। অর্থাৎ বছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ের ধারা শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স শুধু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায় না, এটি দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকেও সচল রাখে। দেশের অসংখ্য পরিবার প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল। এই অর্থ দিয়ে তারা শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করছেন, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সামনের দিনগুলোতেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসীরা পরিবারের জন্য বেশি অর্থ পাঠাতে পারেন, যা মে ও জুন মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়াতে পারে।
তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখতে হলে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ ও নিরাপদ করতে হবে। একইসঙ্গে প্রবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন শ্রমবাজার খোঁজার ওপর জোর দিতে হবে।
প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে রেমিট্যান্স। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।
সব মিলিয়ে মে মাসের প্রথম তিন দিনেই ৩১ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসার খবর দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধারাবাহিক এই প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।