পশ্চিমবঙ্গের ভোট নিয়ে বাংলাদেশে কোনো প্রভাব পড়বে না: মাসুদ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
টুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা সামাজিক সম্প্রীতির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাদের নিজস্ব বিষয়, এর সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই।

মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় অর্ধশতাধিক হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাউফল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাউফল কালীবাড়ি মন্দিরের সভাপতি জীবন কৃষ্ণ সাহা, সাধারণ সম্পাদক অধীর চন্দ্র দাসসহ স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার বক্তব্যে বলেন, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। সেখানে কী হচ্ছে বা কীভাবে হচ্ছে, তার সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের জীবন, রাজনীতি বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী এবং এটি কোনো বাইরের রাজনৈতিক ঘটনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে এবং ভবিষ্যতেও এই সম্প্রীতি বজায় থাকবে। তার মতে, ধর্মীয় সহাবস্থান বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে, যা স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে এসব ঘটনার কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার সুযোগ নেই বলে তিনি মনে করেন।

সভায় উপস্থিত হিন্দু নেতাদের উদ্দেশে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ আরও বলেন, তিনি আগামী পাঁচ বছর স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চান। এ সময় তিনি তাদের পরামর্শ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন এবং প্রয়োজনে তার ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জনগণের সমালোচনা ও পরামর্শকে তিনি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন এবং তা উন্নয়নমূলক কাজে সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করেন। তার মতে, জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব শুধু কথা বলা নয়, বরং জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা।

সভায় স্থানীয় নেতারাও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় সহাবস্থান দীর্ঘদিন ধরে বজায় আছে এবং এটি ভবিষ্যতেও অটুট রাখা প্রয়োজন। তারা জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা তৈরি হলেও বাস্তবে তার সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশে খুব সীমিত। বিশেষ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মতো সংবেদনশীল বিষয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে গড়ে উঠেছে, যেখানে ধর্মীয় সহাবস্থান একটি ঐতিহ্যগত বাস্তবতা। তাই বাইরের দেশের নির্বাচন বা রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে না।

স্থানীয় পর্যায়ের এই ধরনের মতবিনিময় সভাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে। এতে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ও যোগাযোগ বৃদ্ধি পায় এবং সামাজিক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় হয়।

সব মিলিয়ে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের এই মন্তব্যে আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে, প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক ঘটনা বাংলাদেশের সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক স্থিতিশীলতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত