বৈশ্বিক বিনিয়োগে আস্থার নতুন কেন্দ্র বাংলাদেশ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ৫ বার
বৈশ্বিক বিনিয়োগে সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক বিনিয়োগের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী Mirza Fakhrul Islam Alamgir। তিনি বলেছেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণ এবং ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে দেশে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আস্থা ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত Sheraton Dhaka-এ অনুষ্ঠিত “কম্পাস ডায়ালগ, অধ্যায়-১: দ্য ওয়েস্টার্ন ক্যালিব্রেশন” শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইন্সটিটিউট অব স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্যাকটিকস রিসার্চ আয়োজিত এই সংলাপে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক এবং বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে নানা ধরনের অনিশ্চয়তা ও চ্যালেঞ্জ থাকলেও বাংলাদেশ ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং স্থিতিশীল অর্থনৈতিক অগ্রগতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পেরেছে। তার মতে, উন্নয়নশীল অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা নতুন সম্ভাবনার জায়গা হিসেবে দেশটিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণ করা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যে শিল্পায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী দাবি করেন, সরকারের ধারাবাহিক নীতিগত সহায়তা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ফলে দেশে বিদেশি বিনিয়োগের আগ্রহ ধীরে ধীরে বাড়ছে। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে সহজ ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman-এর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি টেকসই অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংলাপে অংশ নেওয়া বিদেশি প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, ভৌগোলিক অবস্থান এবং তরুণ জনগোষ্ঠীকে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন। অনেকেই মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক মানচিত্রে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিনিয়োগ ধরে রাখা এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বাংলাদেশ অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা এবং জ্বালানি খাতে যেসব উন্নয়ন করেছে, তা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

অনুষ্ঠানে আলোচকরা আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং নতুন শিল্প খাত তৈরির সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন। তারা মনে করেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উদ্ভাবনী অর্থনীতি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে।

সংলাপে উপস্থিত অনেকেই বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থান করায় বাংলাদেশ আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলেও মত দেন তারা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং গবেষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সংলাপ ও বিনিয়োগভিত্তিক আলোচনায় বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ বৈশ্বিক পরিসরে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে সরকারের পক্ষ থেকে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তাতে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে—বাংলাদেশ নিজেকে একটি স্থিতিশীল, সম্ভাবনাময় এবং বিনিয়োগবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে চায়। আর সেই লক্ষ্য পূরণে অবকাঠামো উন্নয়ন, নীতিগত সংস্কার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত