প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কুমিল্লায় ভয়াবহ এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নিরাপত্তা শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন স্ত্রীসহ দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছেন। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে প্রায় চার লাখ টাকার বেশি মূল্যমানের নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লা শহরের বালুতুপা কালভার্ট এলাকায়। ভুক্তভোগী কর্মকর্তা নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং আবারও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহ আল মামুন গত ৩০ এপ্রিল স্ত্রীকে নিয়ে সিলেটে ঘুরতে যান। সফর শেষে শনিবার (৩ মে) রাত সাড়ে ৩টার দিকে তারা সিলেট থেকে ট্রেনে করে কুমিল্লায় পৌঁছান। এরপর কুমিল্লা রেলস্টেশন থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে তারা বাখরাবাদ এলাকায় নিজেদের ভাড়া বাসার উদ্দেশে রওনা হন।
যাত্রাপথে বালুতুপা কালভার্টের কাছে পৌঁছালে হঠাৎ একটি পিকআপ ভ্যান দিয়ে তাদের অটোরিকশার পথ আটকে দেয় দুর্বৃত্তরা। প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ অনুযায়ী, চারজন সশস্ত্র ছিনতাইকারী গাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং যাত্রীদের ওপর চড়াও হয়।
ভুক্তভোগী কর্মকর্তা জানান, ছিনতাইকারীরা প্রথমে তাদের ভয়ভীতি দেখায় এবং পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘটনা ঘটে যাওয়ায় তারা কোনো প্রতিরোধ গড়ার সুযোগ পাননি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছিনতাইকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওই এলাকায় অবস্থান করছিল। ঘটনাস্থলটি তুলনামূলকভাবে নির্জন হওয়ায় তারা এই সুযোগ নেয়। লুট হওয়া মালামালের মোট মূল্য প্রায় চার লাখ ১১ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ আল মামুন কোতোয়ালি মডেল থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নয়, বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক সাইফুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রুটিন টহল আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
এদিকে এই ঘটনার কয়েকদিন আগে কুমিল্লায় আরেকটি ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হয়। গত ২৫ এপ্রিল রাতে শহরতলির কোটবাড়ি এলাকায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীকে হত্যার পর তার মালামাল ছিনতাই করা হয়। ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাতের বেলায় শহরের বিভিন্ন সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নির্জন এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ রুটে পর্যাপ্ত টহল না থাকায় অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে।
অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তারা নিয়মিত অভিযান ও টহল কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে অপরাধ দমনে জনসচেতনতা ও তথ্য আদান-প্রদান আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুমিল্লার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি শহরে ধারাবাহিক ছিনতাই ও হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আস্থা কমে যাচ্ছে এবং প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
তারা মনে করছেন, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে সিসিটিভি নজরদারি, রাতের টহল এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ইউনিট আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
ভুক্তভোগী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এই ঘটনা তার পরিবারকে মানসিকভাবে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তারা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ভবিষ্যতে রাতে যাতায়াত নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সাধারণ মানুষও দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে।
সব মিলিয়ে কুমিল্লার এই ছিনতাইয়ের ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন কত দ্রুত এবং কার্যকরভাবে ব্যবস্থা নেয়, সেটিই আগামী দিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।