মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর মামলায় শুনানিতে থাকবেন না ব্রিটনি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬
  • ৫১ বার
ব্রিটনি স্পিয়ার্স আদালত শুনানি ক্যালিফোর্নিয়া মামলা মদ্যপ

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মার্কিন পপ তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্সের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৪ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে এ গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে জনপ্রিয় এই গায়িকা সশরীরে উপস্থিত থাকছেন না বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, যেখানে বলা হয়েছে আদালতের অনুমতিতেই তিনি অনুপস্থিত থাকবেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ভেনচুরা কাউন্টি আদালতে এই মামলার আনুষ্ঠানিক শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। তবে মামলার প্রকৃতি ও অভিযোগের ধরণ বিবেচনায় আদালত ব্রিটনির ব্যক্তিগত উপস্থিতিকে বাধ্যতামূলক করেনি। ফলে তার আইনজীবীর মাধ্যমেই তিনি মামলার শুনানিতে প্রতিনিধিত্ব করবেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটনির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি তুলনামূলকভাবে কম গুরুতর হওয়ায় তাকে সরাসরি আদালতে হাজির হওয়ার প্রয়োজন হয়নি। আইন অনুযায়ী এ ধরনের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি চাইলে আইনজীবীর মাধ্যমে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন।

প্রসিকিউটরদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি ব্রিটনি স্পিয়ার্স আপসের ভিত্তিতে দোষ স্বীকার করেন, তাহলে তার ক্ষেত্রে কারাদণ্ড এড়ানোর সুযোগ থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে আদালত তাকে ১২ মাসের পর্যবেক্ষণে রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাকে ড্রাইভিং নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ নিতে হতে পারে এবং নির্ধারিত জরিমানাও পরিশোধ করতে হবে।

এই মামলাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বিনোদন জগতে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ ব্রিটনি স্পিয়ার্স বিশ্বব্যাপী পরিচিত একজন পপ আইকন, যিনি ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে “বেবি ওয়ান মোর টাইম” গান দিয়ে সঙ্গীত জগতে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার ক্যারিয়ার দীর্ঘ সময় ধরে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে, আর ব্যক্তিগত জীবনও বারবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছে।

আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে ব্রিটনি নিজেও ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে তিনি প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবেন। এমনকি মানসিক ও আচরণগত সহায়তার জন্য তিনি নিজে থেকেই পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এদিকে আদালতের এই মামলার শুনানিকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তার অনুপস্থিতির সিদ্ধান্তকে স্বাভাবিক বললেও, কেউ কেউ মনে করছেন একজন আন্তর্জাতিক তারকার জন্য আদালতে সরাসরি উপস্থিত থাকা আরও বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিত।

প্রসিকিউটরদের মতে, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নির্ভর করবে আদালতের সামনে উপস্থাপিত প্রমাণ, স্বীকারোক্তি এবং আইনগত সমঝোতার ওপর। তবে এখনো পর্যন্ত পুরো বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের ছোটখাটো ট্রাফিক সংক্রান্ত অপরাধে সাধারণত বিকল্প শাস্তি, জরিমানা বা পর্যবেক্ষণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির সামাজিক অবস্থান ও পূর্ববর্তী রেকর্ডও বিচারিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

ব্রিটনি স্পিয়ার্স বর্তমানে ব্যক্তিগত জীবনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন বলে তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন। সাবেক স্বামী কেভিন ফেডারলাইনের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি তার দুই সন্তান শন প্রেস্টন ও জাইডেন জেমসকে ঘিরে নতুনভাবে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সব মিলিয়ে ৪ মে’র শুনানি ব্রিটনির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধাপ হলেও, আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার অনুপস্থিতি মামলার কার্যক্রমে বড় কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য সমঝোতার দিকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত