প্রকাশ: ৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
স্প্যানিশ লা লিগার শিরোপা দৌড়ে যখন প্রায় সব হিসাব-নিকাশ এফসি বার্সেলোনা-এর পক্ষেই ঝুঁকে পড়েছে, তখনও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা দেখাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। রবিবার রাতে আরসিডি এসপানিওল-এর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং শিরোপা দৌড়ে ‘কাগুজে সম্ভাবনা’টুকু হলেও জীবিত রেখেছে মাদ্রিদের দলটিকে।
ম্যাচের পুরো গল্পটাই যেন লেখা হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে, আর সেই গল্পের নায়ক নিঃসন্দেহে ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিউস জুনিয়র। তার জোড়া গোলে জয় নিশ্চিত করে রিয়াল, যদিও ম্যাচের শুরুটা ছিল অনেকটা সতর্ক ও সমানতালে লড়াইয়ের।
খেলার প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমিয়ে তোলে লড়াই। বলের দখল এবং আক্রমণ তৈরিতে এগিয়ে থাকলেও রিয়াল কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি। ৪৩তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজ-এর একটি দারুণ শট গোলের খুব কাছাকাছি গিয়ে ক্রসবারের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। গোলের এতটা কাছে গিয়েও ব্যর্থ হওয়ায় হতাশা ছড়িয়ে পড়ে রিয়াল শিবিরে।
অন্যদিকে, এসপানিওলও বসে থাকেনি। কর্নার থেকে আসা এক নিখুঁত হেডে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন লিয়ান্দ্রো ক্যাব্রেরা। তবে দুর্দান্ত প্রতিক্রিয়ায় সেটি ঠেকিয়ে দেন রিয়ালের গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিন। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়, কিন্তু ম্যাচের উত্তেজনা তখনই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তবে ম্যাচের শুরুতেই একটি বড় ধাক্কা খায় রিয়াল মাদ্রিদ। ১৪তম মিনিটেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ফারল্যান্ড মেন্ডি। চলতি মৌসুমে ইনজুরির কারণে এমনিতেই বেশ কিছু ম্যাচ মিস করেছেন তিনি, ফলে এই নতুন চোট রিয়ালের ডিফেন্সে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ের আগে এই ইনজুরি দলটির পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে যেন নতুন রূপে আবির্ভূত হয় রিয়াল। আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয় তারা, আর সেই আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ভিনিসিউস। ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে গঞ্জালো গার্সিয়া-এর সঙ্গে চমৎকার সমন্বয়ে প্রথম গোলটি করেন তিনি। গোলটি শুধু ম্যাচের জটই খোলেনি, বরং রিয়ালের খেলায় নতুন আত্মবিশ্বাস এনে দেয়।
প্রথম গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে রিয়াল। মাত্র ১১ মিনিটের ব্যবধানে আবারও জালের দেখা পান ভিনিসিউস। ৬৬তম মিনিটে জুড বেলিংহ্যাম-এর নিখুঁত পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তার গতি, ড্রিবলিং এবং ফিনিশিং—সবকিছু মিলিয়ে এসপানিওলের ডিফেন্সকে পুরোপুরি ছাপিয়ে যান তিনি।
এই দুই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি রিয়ালের হাতে চলে যায়। এসপানিওল কিছু আক্রমণ গড়ে তুললেও সেগুলোকে সহজেই প্রতিহত করে রিয়ালের ডিফেন্স। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মাদ্রিদের দলটি।
এই জয়ের ফলে ৩৪ ম্যাচ শেষে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে তাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমানো। বর্তমানে বার্সেলোনা এগিয়ে রয়েছে ১১ পয়েন্টে, যা মৌসুমের এই শেষ সময়ে এসে প্রায় অতিক্রমণযোগ্য নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে ফুটবল অনিশ্চয়তার খেলা, আর সেই অনিশ্চয়তার আশাতেই বেঁচে আছে রিয়াল। আগামী সপ্তাহে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ এবং এফসি বার্সেলোনা মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচে বার্সেলোনা যদি হার এড়াতে পারে, তাহলে শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের। ফলে ম্যাচটি এখন শুধু একটি সাধারণ লিগ ম্যাচ নয়, বরং মৌসুমের ভাগ্য নির্ধারণকারী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রিয়ালের জন্য এখন প্রতিটি ম্যাচই ‘ফাইনাল’-এর মতো। শুধু নিজেদের জিতলেই হবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে বার্সেলোনার ফলাফলের দিকেও। অন্যদিকে বার্সেলোনার জন্য সমীকরণ অনেক সহজ—একটি ম্যাচে হার এড়ালেই তারা শিরোপা উদযাপনের প্রস্তুতি নিতে পারবে।
এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে এসপানিওলের বিপক্ষে জয় রিয়ালের জন্য মানসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি দলকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেবে। বিশেষ করে ভিনিসিউসের মতো খেলোয়াড়দের ফর্মে থাকা রিয়ালের জন্য বড় ইতিবাচক দিক।
সব মিলিয়ে বলা যায়, লা লিগার শিরোপা দৌড় যদিও প্রায় নির্ধারিত হয়ে গেছে, তবুও নাটকীয়তার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়নি। রিয়াল মাদ্রিদ তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে, এখন অপেক্ষা বার্সেলোনার কোনো ভুলের। আর সেই অপেক্ষার মাঝেই ফুটবলপ্রেমীরা উপভোগ করছে এক উত্তেজনাপূর্ণ মৌসুমের শেষ অধ্যায়।