প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
টানা সাতদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও সি-ট্রাক চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে ভোলার সব নৌরুটে। শুক্রবার সকাল থেকে জেলার অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে আবারও যাত্রী পরিবহন শুরু হয়, যা দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়েছে হাজারো যাত্রীর জন্য। উপকূলীয় এই জেলার মানুষজনের জন্য এটি যেন একপ্রকার স্বস্তির নিঃশ্বাস।
বিগত সপ্তাহজুড়ে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বিরাজ করছিল বিরূপ আবহাওয়া। ঘন মেঘ, টানা বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার কারণে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে জারি করা হয়েছিল ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত। এর ফলে ভোলা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী লঞ্চ ও সি-ট্রাক চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। ফলে কয়েকদিন ধরেই বিপাকে পড়েছিলেন ভোলার সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ী শ্রেণি।
তবে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিকেলে সমুদ্রবন্দরগুলো থেকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করে নেয় আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরই প্রেক্ষিতে শুক্রবার সকালে বিআইডব্লিউটিএ অনুমতি দেয় ভোলার অভ্যন্তরীণ নৌরুটগুলোতে পুনরায় লঞ্চ ও সি-ট্রাক চলাচলের।
বিআইডব্লিউটিএ’র ভোলা নদীবন্দর ট্রাফিক কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, “সমুদ্রবন্দর থেকে সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করা হলে আমরা শুক্রবার ভোর থেকেই নৌযান চলাচল চালু করি। আজ সকাল থেকে ইলিশা-লক্ষ্মীপুর, দৌলতখান-আলেকজান্ডার, তজুমুদ্দিন-মনপুরাসহ মোট ১০টি রুটে যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ও সি-ট্রাক গন্তব্যে ছেড়ে গেছে।”
ভোলার এই রুটগুলো বরাবরই দক্ষিণাঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই রুটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সীমাহীন হয়ে দাঁড়ায়। যাত্রীরা দীর্ঘসময় ধরে অপেক্ষা করে ছিলেন কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। অনেকেই জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প পথে অতিরিক্ত খরচ ও সময় ব্যয় করে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
স্থানীয় যাত্রীরা নৌচলাচল শুরুর খবরে অনেকটাই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। ইলিশা ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রী শহিদুল ইসলাম বলেন, “সাত দিন ধরে আটকে ছিলাম। ঢাকা থেকে ভোলা এসে লক্ষ্মীপুর যেতে পারছিলাম না। আজ লঞ্চ ছাড়ছে জেনে খুব ভালো লাগছে। এখন অন্তত কাজে ফিরতে পারবো।”
অন্যদিকে, আবহাওয়ার পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে। আজ শুক্রবার সকালেও ভোলার আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন এবং কোথাও কোথাও হয়েছে হালকা বৃষ্টিপাত। ভোলা আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, “গত আট দিনে ভোলায় ৪২৬ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তার মধ্যে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড হয়েছে ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টি।”
তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও উন্নতির দিকে যাবে। বাতাসের গতিও আগের তুলনায় অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে চলে এসেছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশাবাদী যে, আগামী দিনগুলোতে আর কোনো বাধা ছাড়াই চলবে লঞ্চ ও সি-ট্রাকের স্বাভাবিক যাতায়াত।
নৌপথে চলাচল করা লাখো মানুষের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি স্বস্তির খবর। আবহাওয়ার দাপটে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া এই যোগাযোগব্যবস্থা আবার সচল হওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমও গতি পাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তবে সকলের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে এমন আবহাওয়া পরিস্থিতি আসার আগেই প্রস্তুতি ও বিকল্প ব্যবস্থাগুলো আরও কার্যকরভাবে নেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কম হয়।
ভোলার মানুষ এখন আবারও আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন—নৌপথের কলরব ফিরেছে, ঘাটগুলোতে ব্যস্ততা বেড়েছে এবং প্রিয় নদীপথ আবারও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে।