প্রকাশ: ১১ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিতীয় দিনের বাণিজ্যিক ও শুল্কবিষয়ক আলোচনা পারস্পরিক বোঝাপড়ার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানান, আলোচনার দ্বিতীয় দিনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সম্মতি গৃহীত হয়েছে। যদিও কিছু বিষয় এখনো চূড়ান্ত সমঝোতার অপেক্ষায় রয়েছে, তবুও সামগ্রিক পরিবেশ ছিল গঠনমূলক ও আন্তরিক।
আলোচনার দ্বিতীয় দিনটি ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার, ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় অনুযায়ী। উভয় দেশের প্রতিনিধিদল বর্তমান ও ভবিষ্যতের বাণিজ্য নীতিমালা, শুল্ক কাঠামো এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের ওপর যুক্তিগ্রাহ্য আলোচনা করে। বাংলাদেশ পক্ষ থেকে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, যিনি দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য পরিস্থিতি, ন্যায্য শুল্ক প্রত্যাশা ও প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্য পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন একই দিনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি অ্যাম্বাসেডর জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে। এই বৈঠকটি হয় একান্ত পরিসরে এবং তা ছিল আলোচনার অন্যতম উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত। ট্রাম্প প্রশাসনে মন্ত্রী পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত এই প্রভাবশালী কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠকে উভয় দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে খোলামেলা ও আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের ফেসবুক পোস্টে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, বাংলাদেশ কেবল যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বাড়াতেই আগ্রহী নয়, বরং দেশটি আমদানির ক্ষেত্রেও ভারসাম্য রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতিমধ্যেই আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতের সুদৃঢ় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ভিত্তি গড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পক্ষের এ আলোচনায় আরও ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। ছিলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান ও অতিরিক্ত সচিব নাজনীন কাওসার চৌধুরী। এই প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক কৌশল প্রণয়নের দিকেও মনোযোগী ছিলেন বলে জানা গেছে।
বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। এই আলোচনার মধ্য দিয়ে পারস্পরিক আস্থা ও অংশীদারিত্বের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের প্রবেশাধিকার ও শুল্ক কাঠামো সহজীকরণের বিষয়গুলো দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যতের আলোচনায় কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তৃতীয় দিনের আলোচনা শুক্রবার সকালে, ওয়াশিংটন সময় সকাল ৯টায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেই আলোচনাকে ঘিরে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল ও প্রত্যাশা। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক উত্তরণ, যৌথ স্বার্থ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার এই প্রচেষ্টাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহলের পর্যবেক্ষকরা।
এই আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে ন্যায্যতা ও যুক্তির ভিত্তিতে তুলে ধরতে যে কূটনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছে, তা নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সাহসী পদক্ষেপ। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী রাউন্ডের আলোচনায় কীভাবে তা ফলপ্রসূ রূপ পায় এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক সম্পর্ক কতটা সুসংহত হয়।