প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নতুন বছর ২০২৬-এর প্রাক্কালে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন সময় এসেছে বিভেদ, সংঘাত ও যুদ্ধের রাজনীতি থেকে সরে এসে মানুষ এবং পৃথিবীর সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার। মহাসচিবের এই আহ্বান আসে এমন এক সময়ে যখন বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত, জলবায়ু বিপর্যয় এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এক সাথে মিলিত হয়ে মানবসভ্যতার জন্য গভীর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
জাতিসংঘ সূত্রে জানা যায়, ভিডিও বার্তায় গুতেরেস বলেন, বিশ্ব বর্তমানে এক সংকটময় সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। চারদিকে বিভাজন ও সহিংসতার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মানবজাতিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। তিনি বিশেষভাবে ইউক্রেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের উদাহরণ টেনে মানুষের দুর্ভোগ কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন।
গুতেরেস বলেন, “সংঘাত নয়—এখন সময় মানুষ ও পৃথিবীকে বেছে নেওয়ার। যদি আমরা আমাদের নীতি এবং প্রাধান্য পরিবর্তন করি, তবে আমরা দারিদ্র্য, অসমতা এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের মোকাবিলা করতে পারব।” তিনি সামরিক খাতের অতিরিক্ত ব্যয়কে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, চলতি বছরে বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২.৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই ব্যয় উন্নয়ন খাতের তুলনায় ১৩ গুণ বেশি এবং পুরো আফ্রিকা মহাদেশের মোট জিডিপির সমান।
জাতিসংঘ মহাসচিব আরও সতর্ক করে বলেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির ভয়াবহতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ ধরনের মাত্রায় আর দেখা যায়নি। তার মতে, যুদ্ধ জয়ের পরিবর্তে দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি করলে বিশ্ব আরও নিরাপদ হবে। শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণকে এখন বিশ্বনেতাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
গুতেরেসের বার্তায় মানবিক দৃষ্টিকোণও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তিনি বলেন, আজকের বিশ্বে মানুষের জীবন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা সবার আগে রাখা প্রয়োজন। রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। তার কথায়, মানুষ এবং প্রকৃতিকে বাঁচানোই আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং এটি এখন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকার হতে হবে।
মহাসচিবের বার্তায় বিশ্বের নেতৃত্ব এবং সাধারণ জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি যদি অগ্রাহ্য করা হয়, তবে জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও গভীর সংকটে পরিণত হবে। তিনি যোগ করেন, উন্নয়নমূলক কাজ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যয় বাড়ানোই এখন সবচেয়ে কার্যকর এবং দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার উপায়।
২০২৬ সাল হবে গুতেরেসের জাতিসংঘ মহাসচিব হিসেবে শেষ বছর। এই সময়ে তিনি মানবিকতা, শান্তি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে চান। তার মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে মানুষ ও পৃথিবীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে তার আহ্বান স্পষ্ট: রাজনৈতিক ক্ষমতা বা সামরিক শক্তি নয়, মানুষের জীবন ও পরিবেশকে রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গুতেরেসের এই বার্তা বিশ্বকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সচেতন করার একটি প্রচেষ্টা, যা ২০২৬ সালের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।