মুন্সিগঞ্জে নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ অনুমোদন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫১ বার
মুন্সিগঞ্জে নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ অনুমোদন

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের স্বাস্থ্যশিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার পরিধি সম্প্রসারণে আরও এক ধাপ এগোল সরকার। মুন্সিগঞ্জ জেলায় নতুন আরও একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এই অনুমোদনের ফলে মুন্সিগঞ্জসহ আশপাশের জেলার মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসাশিক্ষার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মুন্সিগঞ্জ জেলায় একটি নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের জন্য নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হলো। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পরই একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। অর্থাৎ, প্রয়োজনীয় ভবন নির্মাণ, হাসপাতালের শয্যা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপন, শিক্ষক ও জনবল নিয়োগসহ সব প্রস্তুতি শেষ হলে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লাস ও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দেশের স্বাস্থ্য খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিন ধরেই মুন্সিগঞ্জসহ দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী হতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপিত হলে স্থানীয় জনগণ নিজ জেলাতেই বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি হবে একটি নতুন শিক্ষা কেন্দ্র, যা ভবিষ্যতে দক্ষ চিকিৎসক তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সংখ্যা এখনও অপর্যাপ্ত। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ে আধুনিক হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। এই প্রেক্ষাপটে মুন্সিগঞ্জে নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্যখাতের বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন রাজধানীর ওপর চিকিৎসাসেবার অতিরিক্ত চাপ কমবে, অন্যদিকে জেলা পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মুন্সিগঞ্জ জেলা ভৌগোলিকভাবে রাজধানীর খুব কাছাকাছি হলেও এখানকার মানুষ জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য প্রায়শই ঢাকার সরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর নির্ভরশীল। এতে রোগীদের যেমন ভোগান্তি বাড়ে, তেমনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বড় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। নতুন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চালু হলে এই চাপ কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুধী সমাজের অনেকে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ শুধু চিকিৎসাসেবাই নয়, বরং একটি অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হাসপাতালকে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসে এবং শিক্ষার পরিবেশও সমৃদ্ধ হয়। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সরকারি হাসপাতালে কম খরচে চিকিৎসাসেবা পাওয়া বড় স্বস্তির বিষয়।

প্রজ্ঞাপনে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে সতর্কতা রাখা হয়েছে, যা সরকারের বাস্তবসম্মত অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অতীতে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে অবকাঠামো ও জনবল প্রস্তুত না থাকলেও তাড়াহুড়ো করে মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে, যা শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এবার অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন হওয়ার শর্ত যুক্ত করায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের মনোযোগ স্পষ্ট হয়েছে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার এর আগেও স্বাস্থ্যশিক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছরের ১১ নভেম্বর একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর অনুমোদন দেয় সরকার। ওই অনুমোদনপ্রাপ্ত নতুন মেডিকেল কলেজটি হলো ঢাকার জুরাইনের ব্যারিস্টার রফিকুল হক মেডিকেল কলেজ। সরকারি ও বেসরকারি—দুই ক্ষেত্রেই মেডিকেল শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর এই উদ্যোগকে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, এর সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার মান, প্রশিক্ষণ সুবিধা ও হাসপাতালের সেবার মান নিশ্চিত করাও জরুরি। শিক্ষক সংকট, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এবং পর্যাপ্ত শয্যার ঘাটতি—এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে না পারলে নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। তাই মুন্সিগঞ্জের প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই পরিকল্পিতভাবে এগোনোর তাগিদ দিয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জন্য উপযুক্ত জমি নির্বাচন, মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন এবং বাজেট বরাদ্দের বিষয়গুলো ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী শয্যা সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হবে। একই সঙ্গে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত বিভাগ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

মুন্সিগঞ্জের সাধারণ মানুষ এই ঘোষণাকে দেখছেন নতুন আশার আলো হিসেবে। অনেকেই বলছেন, গুরুতর অসুস্থ হলে ঢাকায় যাওয়ার ঝামেলা, খরচ ও সময়—সব মিলিয়ে পরিবারকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নিজ জেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল হলে সেই দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। বিশেষ করে মা ও শিশু স্বাস্থ্য, জরুরি চিকিৎসা ও দুর্ঘটনাজনিত চিকিৎসায় এটি বড় ভূমিকা রাখবে।

সব মিলিয়ে মুন্সিগঞ্জে নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল অনুমোদনের সিদ্ধান্ত দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। অবকাঠামো নির্মাণ ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে এটি শুধু একটি জেলার নয়, বরং আশপাশের একাধিক জেলার মানুষের জন্যও আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে। এখন সবার দৃষ্টি সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ ও বাস্তবায়নের দিকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত