প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের স্বাস্থ্য ও বয়সকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছেন। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, তিনি ‘নিখুঁত’ স্বাস্থ্যের অধিকারী। তার এই মন্তব্য মার্কিন রাজনৈতিক মহলে সরাসরি তরঙ্গ সৃষ্টি করেছে, যেখানে প্রেসিডেন্টের বয়স এবং জনসাধারণের সামনে তার শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলে আসছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শের চেয়ে বেশি অ্যাসপিরিন গ্রহণের অভ্যাস তার দীর্ঘদিনের। তিনি বলেছেন, ‘অনেকে বলেন অ্যাসপিরিন রক্ত পাতলা করতে সাহায্য করে, কিন্তু আমি চাই না আমার হৃৎপিণ্ড ঘন রক্ত প্রবাহিত করুক।’ তিনি আরও জানান, গত ২৫ বছর ধরে তিনি প্রতিদিন ৩২৫ মিলিগ্রাম অ্যাসপিরিন গ্রহণ করছেন, যদিও চিকিৎসক সাধারণত ৮১ মিলিগ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন। ট্রাম্প মনে করেন, বয়সের কারণে রুটিন পরিবর্তন করা উচিত নয় এবং এই অভ্যাসে তিনি ‘কিছুটা কুসংস্কারাচ্ছন্ন’।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত ব্যায়ামের প্রতি আগ্রহী নন। তিনি বলেন, তিনি গল্ফ খেলার বাইরে অন্য কোনো ধরনের ব্যায়াম করেন না, কারণ তা তার জন্য বিরক্তিকর। তিনি স্পষ্ট করেছেন, তার স্বাভাবিক জীবনধারায় ব্যায়ামকে বাধ্যতামূলক করা মোটেও সুবিধাজনক নয়। এই বক্তব্য তার বয়স এবং শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
ট্রাম্পের বয়সের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের মন্তব্য বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট। তার বয়সের প্রভাব একাধিকবার সভা ও জনসম্মেলনে লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে তিনি কখনও কখনও প্রশ্নের উত্তর দিতে দেরি করছেন বা ঘুমিয়ে পড়ছেন। এ ধরনের দৃষ্টান্ত জনসাধারণের মধ্যে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের বিষয় তৈরি করেছে।
ট্রাম্পের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে তিনি সিটি স্ক্যান করিয়েছেন। তবে এর আগে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে, তার বিস্তৃত এমআরআই স্ক্যান করা হয়েছে, যা পরে ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন। তার এই স্বীকারোক্তি স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে এমন প্রকাশ্য মন্তব্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। প্রেসিডেন্ট নিজে এই বিতর্ককে হালকা আঙ্গিকে দেখালেও, বিষয়টি নির্বাচনী প্রচারণা এবং জনমতের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষত, আগামী নির্বাচনে তার বয়স এবং শারীরিক সক্ষমতা প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছ থেকে কড়া সমালোচনার সুযোগ করে দিতে পারে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য মার্কিন মিডিয়া এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। তিনি নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে জনসাধারণের কাছে স্বচ্ছতার দাবি জানালেও তার আচরণ, অভ্যাস এবং জীবনধারার বিস্তারিত বিবরণ বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসকদের সাধারণ পরামর্শের চেয়ে বেশি অ্যাসপিরিন গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম না করা এবং মেকআপ ব্যবহার করে হাতের ক্ষত ঢাকানো—এসব বিষয় একে কেন্দ্র করে সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনার প্রসার ঘটিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য ও বয়সের ওপর এমন উন্মুক্ত মন্তব্য রাজনৈতিক কৌশলও হতে পারে। এটি ট্রাম্পের ভক্তদের মধ্যে একটি দৃঢ় বার্তা পৌঁছে দেয় যে, তিনি বয়সের কোনো বাধা মেনে নেননি এবং নিজের সক্ষমতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। একই সঙ্গে, এটি প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য যুক্তি প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
জনসাধারণ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, বিশেষত এমন সময়ে যখন দেশের নেতৃত্ব এবং দায়িত্বের ওপর তার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত অভ্যাস এবং শারীরিক সক্ষমতার বিষয়টি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন রাজনৈতিক মহলে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। স্বাস্থ্য ও বয়সকে কেন্দ্র করে চলমান প্রশ্নের মধ্যে, তার স্বাভাবিক জীবনধারার বিস্তারিত প্রকাশ জনমতের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে স্বচ্ছতা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদান নির্বাচনী নিরপেক্ষতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্পের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত এই বিবৃতি, তার জীবনধারা এবং বয়সের প্রেক্ষাপটে, আগামী নির্বাচনী প্রচারণায় এক ধরনের কৌশল এবং জনমত প্রভাবের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। তার বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজের সক্ষমতার প্রতি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন, যা সমালোচকদের নজরেও এসেছে।