তেঁতুলিয়ায় তীব্র শীত, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৮ ডিগ্রি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৮ বার
তেঁতুলিয়ায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৮ ডিগ্রি

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শীত যেন তার চরম রূপ দেখাচ্ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত সর্বনিম্ন। কয়েক দিন ধরেই জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাস, ফলে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

তেঁতুলিয়া বাংলাদেশের অন্যতম শীতপ্রবণ এলাকা। প্রতিবছর শীত মৌসুম এলেই এখানকার মানুষ অন্য জেলার তুলনায় বেশি ভোগান্তির মুখে পড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ৬ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। ফলে দিনের বেলা সূর্যের দেখা মিললেও কুয়াশার কারণে রোদের উষ্ণতা শরীরে তেমনভাবে লাগছে না।

সকালের দিকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে পুরো এলাকা। দূরের গাছপালা ও ঘরবাড়ি অস্পষ্ট হয়ে যায়। অনেকটা গুঁড়িগুড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরতে থাকে রাতভর। এতে রাস্তাঘাট ভেজা থাকে, বেড়ে যায় ঠান্ডার প্রকোপ। হিমেল বাতাসের সঙ্গে কনকনে শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত শীত এতটাই তীব্র থাকে যে ঘর থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর ও ভ্যানচালকরা কাজে যেতে পারছেন না। অনেকেই কাজ হারিয়ে ঘরে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে আয় বন্ধ হয়ে পড়ায় পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

তেঁতুলিয়ার এক কৃষিশ্রমিক বলেন, “ভোরে মাঠে নামতে গেলে শরীর কাঁপতে থাকে। হাত-পা শক্ত হয়ে যায়। কাজ করতে পারি না। কয়েক দিন ধরে ঠিকমতো কাজে যেতে পারছি না।” একই কথা জানালেন এক ভ্যানচালকও। তার ভাষায়, “শীতে যাত্রীও কম। রাস্তায় কুয়াশা থাকায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। আয় নেই বললেই চলে।”

শীতের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের জীবনেও। অনেক শিশু সকালে স্কুলে যেতে চায় না। অভিভাবকরা বলছেন, পর্যাপ্ত গরম কাপড় না থাকায় শিশুদের ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিশুরা বেশি কষ্ট পাচ্ছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীদেন্দ্রনাথ রায় জানান, শুক্রবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি বলেন, এটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে পড়ে। দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও কুয়াশার কারণে সূর্যের তাপ মাটিতে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে শীতের অনুভূতি বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে শীতল বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় তাপমাত্রা খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। কুয়াশা ও হিমেল বাতাস থাকায় রাত ও ভোরের দিকে শীত আরও তীব্র অনুভূত হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, যা ছিল মাত্র ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেই রেকর্ড এখনও মানুষের স্মৃতিতে আতঙ্কের মতো ভাসে। যদিও এবারের তাপমাত্রা সেই রেকর্ডের কাছাকাছি নয়, তবুও সাধারণ মানুষের কষ্ট কম নয়।

শীতের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও জ্বরের মতো সমস্যায় বেশি ভুগছেন। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হতে এবং গরম কাপড় ব্যবহার করতে।

এদিকে শীত মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ এখনও পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অনেক ছিন্নমূল মানুষ খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী ঘরে বসবাস করছেন। তাদের কাছে শীতবস্ত্র পৌঁছায়নি। স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলো সীমিত পরিসরে কম্বল বিতরণ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন। ভোরবেলা রাস্তার ধারে কিংবা বাড়ির উঠোনে জড়ো হয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা। নারী ও শিশুরাও আগুনের পাশে বসে হাত গরম করছে।

সব মিলিয়ে, তেঁতুলিয়ায় চলমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই দুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন স্থানীয়দের একটাই প্রত্যাশা—শীতের তীব্রতা দ্রুত কমুক এবং অসহায় মানুষের পাশে কার্যকর সহায়তা পৌঁছাক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত