প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চলতি মৌসুমে প্রত্যাশিত ছন্দ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে লিভারপুল। মাঠের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব, একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পয়েন্ট হারানো—সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছে অল রেডরা। এর মধ্যেই ক্লাবটির জন্য বড় দুঃসংবাদ হয়ে এলো তরুণ ডিফেন্ডার কনর ব্র্যাডলির ইনজুরি। হাঁটুর গুরুতর চোটে পড়ে চলতি মৌসুমে আর মাঠে ফেরা হচ্ছে না আয়ারল্যান্ডের এই প্রতিভাবান রাইট-ব্যাকের। মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার অনুপস্থিতি লিভারপুলের রক্ষণভাগকে আরও চাপে ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
গত বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে এমিরেটস স্টেডিয়ামে গোলশূন্য ড্র হওয়া ম্যাচে এই ইনজুরির শিকার হন ব্র্যাডলি। ম্যাচের যোগ করা সময়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে বলের পেছনে দৌড়াচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় আর্সেনাল উইঙ্গার গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলির সঙ্গে সংঘর্ষে টাচলাইনের পাশে পড়ে যান। প্রথম দেখাতেই বোঝা যাচ্ছিল আঘাতটা বেশ গুরুতর। মাঠে শুয়ে কাতরাতে থাকা ব্র্যাডলিকে দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন সতীর্থরা ও লিভারপুলের মেডিকেল স্টাফ।
পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, ২২ বছর বয়সি এই ডিফেন্ডারের হাঁটুর হাড় ও লিগামেন্টে মারাত্মক চোট লেগেছে। যদিও প্রাথমিকভাবে অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট বা এসিএল ইনজুরি হতে পারে, তবে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে—এটি এসিএল নয়। তবুও চোটের মাত্রা এমন যে অস্ত্রোপচার ছাড়া বিকল্প নেই। খুব শিগগিরই তার সার্জারি করা হবে এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় চলতি মৌসুমে আর তাকে মাঠে দেখা যাবে না।
এই ইনজুরি লিভারপুলের জন্য দ্বিগুণ ধাক্কা হয়ে এসেছে। কারণ, ট্রেন্ট অ্যালেকজান্ডার-আর্নল্ড রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর দলের প্রথম পছন্দের রাইট-ব্যাক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন কনর ব্র্যাডলি। তরুণ বয়স হলেও তার আত্মবিশ্বাস, গতি এবং রক্ষণ ও আক্রমণে ভারসাম্যপূর্ণ অবদান কোচিং স্টাফের আস্থা অর্জন করেছিল। চলতি প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে তিনি ১২টি ম্যাচে শুরুর একাদশে খেলেছেন এবং বেশ কয়েকটি ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
ব্র্যাডলির এই উত্থান ছিল লিভারপুলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিজস্ব একাডেমি থেকে উঠে আসা এই ফুটবলারকে ঘিরে রাইট-ব্যাক পজিশনে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দেখছিল ক্লাবটি। আক্রমণে ওঠার সাহস, নিখুঁত ক্রস এবং প্রতিপক্ষ উইঙ্গারদের সামলানোর দক্ষতা তাকে দ্রুতই সমর্থকদের প্রিয় করে তোলে। তাই তার মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ার খবরে হতাশ লিভারপুল সমর্থকেরা।
কোচিং স্টাফের জন্যও এটি বড় মাথাব্যথার কারণ। এমনিতেই ইনজুরি সমস্যায় জর্জরিত লিভারপুল স্কোয়াড। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড় বিভিন্ন সময়ে চোটে পড়ায় দল গঠনে বারবার পরিবর্তন আনতে হয়েছে। ব্র্যাডলির অনুপস্থিতিতে রাইট-ব্যাক পজিশনে এখন বিকল্প হিসেবে অভিজ্ঞতা কম এমন খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করতে হবে, যা বড় ম্যাচে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এই ইনজুরি কেবল ক্লাব পর্যায়েই নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলেও প্রভাব ফেলতে পারে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড যদি আগামী বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে, সেক্ষেত্রে ব্র্যাডলির সেখানে খেলার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। দীর্ঘ পুনর্বাসন ও ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেতে সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতীয় দলের জন্যও এটি বড় এক ধাক্কা, কারণ ব্র্যাডলি ছিলেন তাদের ভবিষ্যৎ রক্ষণের অন্যতম ভরসা।
ফুটবলবিশ্বে ইনজুরি নতুন কিছু নয়, তবে তরুণ খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে মানসিক ধাক্কাটা অনেক বেশি হয়। ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে থাকা অবস্থায় এমন চোট যে কোনো ফুটবলারের জন্য কঠিন পরীক্ষা। ব্র্যাডলির ক্ষেত্রেও বিষয়টি ব্যতিক্রম নয়। তবে ক্লাব ও সমর্থকেরা আশাবাদী, সঠিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে তিনি আরও শক্ত হয়ে ফিরবেন।
লিভারপুল ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, ব্র্যাডলির চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হবে। তাকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে কোচিং স্টাফ ও সতীর্থরাও পাশে থাকবেন। ক্লাবের ইতিহাসে এর আগেও অনেক খেলোয়াড় গুরুতর ইনজুরি কাটিয়ে শক্তভাবে ফিরেছেন—সেই উদাহরণই এখন প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে এই তরুণ ডিফেন্ডারের জন্য।
সব মিলিয়ে, কনর ব্র্যাডলির মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ার খবর লিভারপুলের চলতি মৌসুমের সংগ্রামকে আরও কঠিন করে তুলেছে। মাঠে তার অনুপস্থিতি যেমন রক্ষণভাগে শূন্যতা তৈরি করবে, তেমনি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাতেও সাময়িক অনিশ্চয়তা আনবে। তবে ফুটবলের গল্প কখনো এক অধ্যায়ে শেষ হয় না। এই চোট হয়তো ব্র্যাডলির ক্যারিয়ারে একটি কঠিন অধ্যায়, কিন্তু শক্ত মানসিকতা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি আবারও ফিরবেন—এই প্রত্যাশাই করছে লিভারপুল ও ফুটবলপ্রেমীরা।