সর্বশেষ :
গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও দূরত্ব ঘোচেনি ড্রোন অনুপ্রবেশে দোষীদের শাস্তির অঙ্গীকার দক্ষিণ কোরিয়ার ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের দাবি ব্রিটিশ এমপিদের বিবাহবার্ষিকীতে ডিভোর্স পেপার, সেলিনার জীবনের কঠিন সত্য উত্তেজনার মধ্যে ইরানের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হাদীর বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে স্ত্রীর প্রশ্ন ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নে ধস, উন্নয়ন গতি পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন রংপুরের ছয় আসনে ভোটের লড়াই, শক্ত অবস্থানে জামায়াত যুব বিশ্বকাপে আজ পর্দা উঠছে, শুরুতেই ভারতের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের

তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি, ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৩ বার
তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি শীত

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের উত্তরাঞ্চলের জনজীবনে আবারও জেঁকে বসেছে কনকনে শীত। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় বুধবার সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কয়েক দিন ধরেই এই অঞ্চলে তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির ঘরে ওঠানামা করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল বাতাস, যা শীতের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন ছিন্নমূল মানুষ ও খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবীরা।

বুধবার সকালে সূর্যের দেখা মিললেও কুয়াশার কারণে রোদের তেজ ছিল খুবই কম। আকাশজুড়ে ছিল ধূসর কুয়াশার চাদর। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল তেঁতুলিয়া ও আশপাশের এলাকা। মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। অনেক স্থানে দৃশ্যমানতা ছিল অত্যন্ত কম, যা যানবাহন চালকদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। যদিও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার ঘনত্ব কিছুটা কমেছে, তবে হিমেল বাতাস আর শীতের দাপটে মানুষের কষ্ট কমেনি।

শীতের এই প্রকোপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে দিনমজুর, পাথর শ্রমিক ও নদীভিত্তিক কাজে যুক্ত মানুষদের মধ্যে। তেঁতুলিয়ার কৃষ্ণকান্তজোত গ্রামের মহিলা পাথর শ্রমিক আমিনা বলেন, কনকনে শীতে হাত-পা অবশ হয়ে আসে। কাজ না করলে সংসার চলে না। এলাকায় কাজের সুযোগও খুব কম। বাধ্য হয়ে শীতে ভেজা পাথরের কাজে যেতে হচ্ছে। তার মতো আরও অনেক নারী ও বয়স্ক মানুষ ঠান্ডা উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে নদী ও পাথর ভাঙার কাজে নেমে পড়ছেন।

বাংলাবান্ধা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান জানান, মহানন্দা নদীর পানি বরফের মতো ঠান্ডা। নদীতে নামা এখন দুঃসাধ্য। তবুও পাথর কুড়ানোর জন্য পানিতে নামতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সরিষার তেল মেখে কোনোমতে পানিতে পা নামিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। শীতের কারণে নদীতে পাথরও খুব একটা পাওয়া যাচ্ছে না, তবুও না নামলে উপার্জন বন্ধ হয়ে যাবে।

স্থানীয়রা বলছেন, শীতের কারণে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। গ্রামে গ্রামে সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের রোগী বাড়ছে। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে অনেক পরিবার রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও খোলা জায়গায় বসবাসকারী মানুষদের অবস্থা আরও করুণ।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক রোকনুজ্জামান জানান, বুধবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। দিনের তাপমাত্রা তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি বেশি হচ্ছে। তিনি বলেন, উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা শীতল বাতাসের কারণে এই অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতি বিরাজমান থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জানুয়ারি মাসে উত্তরাঞ্চলে এ ধরনের শৈত্যপ্রবাহ নতুন কিছু নয়। তবে চলতি বছর তাপমাত্রা দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ায় মানুষ প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ কম পেয়েছে। ফলে শীতজনিত দুর্ভোগও বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ভোর ও রাতের দিকে তাপমাত্রা আরও কমে যাচ্ছে, যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে।

শীতের প্রভাবে কৃষিক্ষেত্রেও প্রভাব পড়ছে। কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে কিছু শীতকালীন সবজির বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। যদিও আলু, সরিষা ও গমের মতো ফসলে শীত কিছুটা উপকারী, তবে অতিরিক্ত কুয়াশা ও ঠান্ডা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শীতার্ত মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক এলাকাতেই এই সহায়তা এখনো পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এই তীব্র শীতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ একসঙ্গে না হলে সবচেয়ে দুর্বল মানুষগুলো আরও বড় সংকটে পড়বে।

তেঁতুলিয়া ও আশপাশের এলাকায় শীতের এই চিত্র এখন প্রতিদিনের বাস্তবতা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুয়াশার আড়ালে সূর্য লুকিয়ে থাকছে, বিকেল গড়াতেই আবার ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করছে। সন্ধ্যার পর তাপমাত্রা দ্রুত নেমে যাচ্ছে। গ্রামের রাস্তা, মাঠঘাট, নদীপাড়—সবখানেই শীতের প্রভাব স্পষ্ট।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শীত ও গরমের চরমতা বাড়ছে। কখনো অস্বাভাবিক গরম, কখনো হঠাৎ তীব্র শীত—এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে শীতার্ত মানুষের সুরক্ষায় টেকসই পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

সব মিলিয়ে, তেঁতুলিয়ায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি হাজারো মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। ঘন কুয়াশা, হিমেল বাতাস আর কনকনে শীতের মধ্যে দাঁড়িয়ে জীবিকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। শৈত্যপ্রবাহের এই দিনগুলো কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ, মানবিক সহায়তা ও সচেতনতা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত