ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় দুই বন্ধু নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫ বার
ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক দুর্ঘটনা নিহত

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই বন্ধু নিহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সোনারামপুর সেতুর ওপর ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, যা স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে। নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে সামাউন মিয়া (২১) এবং একই এলাকার মাকরুল মোল্লার ছেলে আবদুর রহমান (২৩)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শৈশবকাল থেকেই দুই বন্ধু একসাথে চলাফেরা করতেন। বুধবার বিকেলেও তাঁরা একই সঙ্গে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হন। দুর্ঘটনা ঘটেছে ভৈরবের নিজ বাড়িতে ফেরার পথে, যখন তারা ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ উপজেলার সোনারামপুর সেতুর ওপর পৌঁছান। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং দুজনই গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি পালিয়ে যায়। নিহতদের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে এবং পরিবারের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা আজই মামলা করবেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ট্রাকটি দ্রুত খুঁজে বের করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা, দুই তরুণের জীবনহানি পরিবারের জন্য এক বিরাট ক্ষতি।”

দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, এই সড়কটি ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে যানবাহনের চাপ অনেক বেশি। দ্রুত গতির ট্রাক এবং ছোট যানবাহনের মধ্যে সংযোগ না থাকা বা সতর্কতার অভাব প্রায়শই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে থাকে। বিশেষত সন্ধ্যার সময় সড়কের আলো কম থাকায় ছোট যানবাহনগুলো ঝুঁকির মুখে পড়ে।

নিহত দুই বন্ধুর পরিবার এবং গ্রামের মানুষদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাদের বন্ধু ও প্রতিবেশীরা নিহতদের স্মৃতিচারণ করছেন এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে দ্রুত বিচার ও ট্রাক চালককে গ্রেপ্তারের জন্য তৎপর থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনার পরপরই আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তারা নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রাথমিক সহায়তা প্রদান করেছেন। এছাড়া পুলিশ দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ট্রাকের সন্ধান চালাচ্ছে এবং আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের মত ব্যস্ত রুটে যানবাহনের উচ্চ গতিবেগ ও নিরাপত্তার অভাব জনজীবনে বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা এবং গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ থাকলেও, বাস্তবে তা পর্যাপ্ত কার্যকর হচ্ছে না। এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে।

নিহত দুই বন্ধুর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এই দুই যুবক একসঙ্গে বড় হয়ে একে অপরের পাশে ছিলেন। শৈশব থেকে বন্ধুত্বের বন্ধন এবং একসাথে চলাফেরার অভ্যাস তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। দুর্ঘটনা পরিবারের জন্য এক চরম আঘাত এবং দুই সম্প্রদায়ের যুব সমাজে শোকের ছাপ ফেলেছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের তৎপরতা দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধ করা যায়। পাশাপাশি পরিবার এবং স্থানীয় কমিউনিটিকে প্রাথমিক মানসিক সহায়তা প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত