ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিনকে ৫০ দিনের আল্টিমেটাম: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও অস্ত্রচুক্তি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৩১ বার
ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিনকে ৫০ দিনের আল্টিমেটাম: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও অস্ত্রচুক্তি

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সরাসরি ভ্লাদিমির পুতিনকে লক্ষ্য করে তিনি জানিয়েছেন, রাশিয়াকে এই যুদ্ধ বন্ধ করতে ৫০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সমঝোতায় না পৌঁছালে রাশিয়ার বিরুদ্ধে শতভাগ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি। একইসঙ্গে ইউক্রেনকে আরও উন্নত অস্ত্র সরবরাহের ঘোষণাও দিয়েছেন ট্রাম্প, যার মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

সোমবার (১৪ জুলাই) ওভাল অফিসে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে এক যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প এই বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “আমি পুতিনের আচরণে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট। তিনি যে ধ্বংসাত্মক পথে হাঁটছেন, তা মেনে নেওয়া যায় না। রাশিয়াকে আমরা ৫০ দিন সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে যুদ্ধ থামাতে কোনো সমাধানে না পৌঁছালে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

ট্রাম্পের এই ঘোষণায় নতুন করে চাপের মুখে পড়তে পারে রাশিয়া। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে সরাসরি রাশিয়ার ওপরই শুল্ক আরোপ করা হবে, আর দ্বিতীয় ধাপে রাশিয়ার বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলোকে লক্ষ্য করে একই ধরনের শুল্ক আরোপ করা হবে। এতে করে রাশিয়ার বৈদেশিক বাণিজ্য পুরোপুরি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা দ্বিতীয় স্তরের শুল্ক প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছি, যার আওতায় রাশিয়ার প্রধান বাণিজ্য অংশীদার চীন, ভারত, তুরস্ক ও বেলারুশকেও শুল্কের আওতায় আনা হবে। এতে রাশিয়ার অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও দুর্বল হবে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘোষণায় কেবল রাশিয়াই নয়, বিশ্বের বড় অর্থনৈতিক অংশীদার দেশগুলোও নতুন করে কূটনৈতিক চাপ অনুভব করবে। ট্রাম্পের শুল্কনীতি বরাবরই আক্রমণাত্মক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসাধনের জন্য কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প ও ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট একটি বৃহৎ অস্ত্রচুক্তিরও ঘোষণা দেন। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোকে বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম দেবে, যা সরাসরি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগানো হবে। এতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ট্রাম্প বহুদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেন সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের মতো ভূমিকা রাখছে না। তবে ন্যাটোর এই নতুন চুক্তি সেই সমালোচনারও আংশিক জবাব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রুট জানান, “ইউক্রেনকে সহায়তা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের একার দায়িত্ব নয়। ইউরোপের বহু দেশ এখন আরও সক্রিয়। জার্মানি, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, ব্রিটেন সবাই বড় ভূমিকা রাখছে।”

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির প্রসঙ্গে ন্যাটো মহাসচিব বলেন, “যদি আমি এখন পুতিনের জায়গায় থাকতাম এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য শুনতাম, তাহলে আমি নিশ্চিতভাবেই নতুন করে চিন্তা করতাম।”

এই অবস্থার মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং নতুন অস্ত্রচুক্তির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ইউক্রেন সরকার জানিয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং রাশিয়ার ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করা সহজতর হবে।

বর্তমানে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ক্ষেত্রজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বহু প্রাণহানি ও অবকাঠামো ধ্বংসের মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ গড়িয়েছে তৃতীয় বর্ষে। ট্রাম্পের আল্টিমেটাম এবং ন্যাটোর বৃহৎ অস্ত্রচুক্তি যুদ্ধের গতিপথে কোনো নতুন মোড় আনতে পারে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে এটুকু নিশ্চিত যে, বিশ্ব নতুন করে এক জটিল অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত