রোজার আগেই খেজুরসহ পণ্যের দাম বাড়ল বাজারে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৬ বার
রোজার আগেই খেজুরসহ পণ্যের দাম বাড়ল বাজারে

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগেই দেশে ইফতারি ও অন্যান্য রোজার পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। বিশেষ করে রোজার সময় জনপ্রিয় খাবার খেজুরের দাম কয়েক দিনেই বাড়তে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে ধরনভেদে খেজুরের দাম প্রতি কেজি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এই সময় অন্যান্য পণ্যের মধ্যে গরুর মাংস, কিছু মাছ ও বিদেশি ফলের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও ছোলা, ডাল, চিনি প্রভৃতি পণ্যের বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।

পাইকারি পর্যায়ের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, খেজুরের আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধি হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে খুচরা বিক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা পাইকারি থেকে আগের তুলনায় বেশি দামে খেজুর কিনছেন, তাই ভোক্তাদের কাছেও নতুন দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পাশাপাশি শুল্ক ও অন্যান্য খরচের কারণে ফলের দামও অনেক দিন ধরে উচ্চমানের পর্যায়ে রয়েছে।

সাধারণত রোজার সময় ইফতারের প্রধান খাদ্য হিসেবে খেজুরের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ হাজার টন খেজুরের চাহিদা থাকে। এর মধ্যে রমজান মাসে বিক্রি হয় এই চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ। এ কারণে রমজানের আগে বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

সরকার রমজান মাসে খেজুরের সরবরাহ ও বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিসেম্বর মাসে খেজুরের আমদানি শুল্ক কমিয়ে ২৫ থেকে ১৫ শতাংশে নেমেছে। ফলে দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে খেজুর সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজারে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, প্রতিটি বাজারে বিক্রেতাদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ খেজুর রয়েছে। ক্রেতারাও রোজা উপলক্ষে খেজুর কিনতে শুরু করেছেন।

বর্তমানে বাজারে জাহিদী খেজুরের দাম প্রতি কেজি ২৮০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ২৫০ টাকার আশপাশে ছিল। অন্যান্য ধরনের খেজুরের মধ্যে বরই খেজুর ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, দাবাস ৫০০ টাকা, কালমি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সুক্কারি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, মাবরুম ৮৫০ থেকে ১২০০ টাকা, মরিয়ম ১১০০ থেকে ১৪০০ টাকা এবং মেডজুল ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোহাম্মদপুরের ফল বিক্রেতা রাকিব মুন্সি জানিয়েছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে এসব খেজুরের দাম প্রতি কেজি ২০-৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, পাইকারি পর্যায়ে খেজুরের দাম কোনোভাবে বেড়েনি। বাজার স্থিতিশীল রয়েছে এবং সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। খুচরা বাজারে দাম বৃদ্ধি হওয়ার কারণ তিনি স্পষ্ট করতে পারেননি।

খেজুর ছাড়াও রোজার সময়ে ক্রেতাদের চাহিদার কারণে গরুর মাংস, কিছু মাছ ও বিদেশি ফলের দামও বেড়েছে। গতকাল প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহে এই দাম ছিল কেজি প্রতি ৫০ টাকা কম। মাছের মধ্যে রুই, শিং, কই, পাবদা প্রভৃতি মাছের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। বিদেশি ফলের মধ্যে আপেল, নাশপাতি, আনারস ও কমলার দাম প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমদানিকারক সিরাজুল ইসলাম জানান, বিদেশি ফলের প্রতি কেজিতে ১২৫ থেকে ১৬০ টাকা শুল্ক ও কর দিতে হয়। এর সঙ্গে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ করলে ফলের দাম স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। শুল্ক কমলে ফলের দামও কমে আসবে।

অন্যদিকে, রমজান মাসে প্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। বেশির ভাগ পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় কম। যেমন ছোলার দাম বর্তমানে ৯০ থেকে ১০০ টাকা প্রতি কেজি, যেখানে গত বছর তা ১১০-১২০ টাকার মধ্যে ছিল। বুটের ডাল, খেসারি ও অ্যাংকর ডালের দামও গত বছরের তুলনায় ১০-২০ টাকা কম। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, চিনির দাম গত বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ কমে ৯৫-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা নিঘাত পারভীন জানান, রোজা শুরুর আগে খেজুরের দাম বাড়তে শুরু করেছে। গরুর মাংস, মাছ ও কিছু ফলের দামও বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘এভাবে কিছু পণ্যের দাম কমে আবার কিছু পণ্যের দাম বেড়ে যায়। আমাদের সাধারণ ক্রয়ক্ষমতা অনুযায়ী খরচ কমানো সম্ভব হয় না।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রমজান মাসের আগে বাজারে কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধি স্বাভাবিক। কারণ ক্রেতার চাহিদা বেড়ে যায়, আমদানির খরচ ও শুল্কের প্রভাব থাকে। তবে পাইকারি পর্যায়ে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় দাম সাময়িকভাবে বেশি থাকলেও বাজারে সংকটের সুযোগ নেই।

এভাবে, রোজার আগেই খেজুরসহ কিছু খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ক্রেতাদের জন্য চিন্তার বিষয় হলেও বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে ক্রেতারা ইফতারের প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারবে এবং বিক্রেতারাও ব্যবসা পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত