ঐক্যের আহ্বান, জামায়াতকে ‘ভদ্র’ বললেন স্পিকার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার
ঐক্যের আহ্বান, জামায়াতকে ‘ভদ্র’ বললেন স্পিকার

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঐক্যের বার্তা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে পারস্পরিক সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে কাউকে হয়রানি না করার জন্য সতর্ক করেছেন। তার বক্তব্যের একটি অংশ বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, যেখানে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেন এবং তাদের সংসদীয় আচরণকে ‘ভদ্র’ বলে অভিহিত করেন।

শুক্রবার বিকেলে তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর স্থানীয় শাখা। এ সময় উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও।

স্পিকার তার বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে সহনশীলতা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “দলবাজি আর করবেন না। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে হয়রানি করবেন না।” তার মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন সময় এসেছে একটি সহনশীল ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তোলার, যেখানে ভিন্নমতকে সম্মান করা হবে এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে নীতির ভিত্তিতে, প্রতিহিংসার নয়।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “জামায়াতে ইসলামী ভদ্রলোকের দল, সংসদে তারা খুব ভালো ব্যবহার করে। একসময় তারা আমাদেরই মিত্র দল ছিল।” তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় পারস্পরিক সমঝোতা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং জামায়াতের প্রতি একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তার মতে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় অপরিহার্য।

তবে তার বক্তব্যের আরেকটি অংশ ছিল বেশ কড়া সমালোচনামূলক। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর শাসনামলের বিভিন্ন কার্যক্রমের সমালোচনা করে বলেন, “অন্যায়, অবিচার, লুটপাট ও সন্ত্রাস করলে কী ফলাফল হয়, তা আমরা দেখেছি।” তিনি দাবি করেন, অতীতের শাসনামলে যে ধরনের অনিয়ম ও দমননীতি দেখা গেছে, তার ফলাফল দেশের মানুষ ইতোমধ্যেই ভোগ করেছে।

স্পিকার তার বক্তব্যে আরও বলেন, “ছয়বারের এমপিকেও ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি। তারা ভেবেছিল এভাবেই দিন যাবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।” তিনি এই প্রসঙ্গে বলেন, জনগণের প্রতিক্রিয়া এবং সময়ের বিচারে অন্যায়ের পরিণতি অবশ্যম্ভাবী। তিনি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, অন্যায়ের ওপর আল্লাহর গজব নেমে আসে।

এ সময় তিনি ছাত্রসমাজের ভূমিকাও উল্লেখ করেন। তার মতে, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনে ছাত্রদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, ছাত্ররা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে এবং দেশের উন্নয়নের পথকে সুগম করেছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে স্পিকার বলেন, বর্তমান যে ঐক্য গড়ে উঠেছে, তা ভেঙে গেলে পরিস্থিতি আবার অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই ঐক্য ভেঙে গেলে বিদেশি প্রভাব বাড়তে পারে এবং দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তার বক্তব্যে ‘ভারত থেকে দাদারা’ প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি ইঙ্গিত দেন, অভ্যন্তরীণ বিভাজন দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা আর এমন বাংলাদেশ দেখতে চাই না, যেখানে মানুষ গুম হবে, ভয়ে থাকবে, আতঙ্কে ঘুমাতে পারবে না।” তার এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, তিনি একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশের প্রত্যাশা করছেন, যেখানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত থাকবে।

ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপির দায়িত্বের কথাও উল্লেখ করেন স্পিকার। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে তাদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা অতীতের ভুলগুলো পুনরাবৃত্তি করবে না। তিনি আশ্বস্ত করেন, ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার বা জাতীয় পর্যায়ের যেকোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করা হবে, যাতে জনগণ তাদের ভোটাধিকার নির্বিঘ্নে প্রয়োগ করতে পারে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতারাও বক্তব্য রাখেন। তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু, ভোলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাছেতসহ আরও অনেক নেতা তাদের মতামত তুলে ধরেন। তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন।

এই গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি হয়ে ওঠে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। স্পিকারের বক্তব্যে যেমন ছিল ঐক্যের আহ্বান, তেমনি ছিল সতর্কবার্তা এবং ভবিষ্যতের জন্য দিকনির্দেশনা।

সার্বিকভাবে, এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে তার মন্তব্য এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার আহ্বান আগামী দিনের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত