ভারত ফ্রান্স থেকে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৩ বার
ভারত ফ্রান্স থেকে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনছে

প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারত ফ্রান্স থেকে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনতে যাচ্ছে। এটি হবে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিরক্ষা চুক্তি হিসেবে চিহ্নিত, যার সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ২৫ লক্ষ কোটি টাকা। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণ আলোচনা শুরু করেছে এবং এই সপ্তাহে চুক্তি সংক্রান্ত উচ্চ-স্তরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা এএনআই এ তথ্য জানিয়েছে।

বর্তমান চুক্তি অনুমোদিত হলে, ভারতীয় বিমানবাহিনীতে রাফালের মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭৬টি। এয়ারফোর্স ইতিমধ্যেই ৩৬টি রাফাল জেট ব্যবহার করছে। এছাড়া, নৌবাহিনী গত বছর ২৬টি রাফালের অর্ডার দিয়েছে। চুক্তির আওতায় মোট ১১৪টি রাফালের মধ্যে ১৮টি ফ্লাইং কন্ডিশনে সরাসরি ফরাসি থেকে আনা হবে। বাকি বিমানগুলো ভারতের অভ্যন্তরীণ শিল্পে তৈরি হবে, যেখানে দেশীয় প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। জানা গেছে, এই বিমানগুলোর প্রায় ৩০ শতাংশ অংশ দেশীয় উপাদান ব্যবহার করে তৈরি হবে।

উল্লেখযোগ্য যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া তাদের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান যথাক্রমে এফ-৩৫ এবং এসই-৫৭ ভারতকে অফার করলেও, ভারত ফ্রান্সের সঙ্গে রাফাল চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ সূত্রগুলো জানিয়েছে, চুক্তির অংশ হিসেবে ফরাসি রাফাল বিমানগুলোতে ভারতীয় অস্ত্র এবং দেশীয় সিস্টেম সংযুক্ত করার সুযোগ রাখা হচ্ছে। এতে করে বিমানগুলোতে ভারতীয় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও প্রসারিত হবে এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

চুক্তি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমরাস্ত্র ক্রয় সংস্থা, ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (ডিএকে) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবে। এ বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এই সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি চুক্তির শর্তাবলি চূড়ান্ত করা হবে।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা শুধু দেশীয় আকাশসীমার নিরাপত্তা বাড়ানোর দিকেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যও বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিমানগুলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত এবং এগুলো ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও মজবুত করবে। বিশেষ করে সামরিক অভিযানে তৎপরতা বৃদ্ধি ও আকাশসীমার রাডার-নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা উন্নয়নে এই বিমানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাফাল যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে ফ্রান্সের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কও গুরুত্ব বহন করে। প্রথমে ভারত কয়েকটি বিমান ফরাসি প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি কিনেছিল, পরে স্থানীয় শিল্পের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করা হয়। এভাবে ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং দেশীয় উপাদান ব্যবহার করে উচ্চমানের যুদ্ধবিমান তৈরি করা সম্ভব হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাফালের এই চুক্তি কেবল বিমানবাহিনীকে শক্তিশালী করবে না, বরং ভারতীয় বিমান শিল্পের জন্যও এটি বড় ধরনের প্রেরণা। বিদেশী প্রযুক্তির সঙ্গে দেশীয় প্রযুক্তির সমন্বয় প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করবে। চুক্তি বাস্তবায়িত হলে, দেশীয় উপাদান ব্যবহার করে নির্মিত রাফাল বিমানগুলো ভারতের আত্মনির্ভরতা এবং সামরিক প্রগতিকে আরও সুদৃঢ় করবে।

একই সঙ্গে, রাফাল চুক্তি ভারতের আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করলে, এই বিমানগুলো ভারতকে হুমকি প্রতিরোধে সক্ষম করবে। বিশেষ করে সীমান্ত সংঘর্ষ বা আকাশসীমা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে রাফাল বিমানগুলোর গতি, বহুমুখী ক্ষমতা এবং উচ্চমানের সশস্ত্র ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এ চুক্তি কেবল সামরিক দিকেই নয়, অর্থনৈতিক দিকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। ১১৪টি যুদ্ধবিমানের অর্ডার ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে দেশীয় অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো হলে প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে সাহায্য হবে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চুক্তি ভারতের সামরিক শিল্পে নতুন ধারা আনবে এবং ভবিষ্যতের জন্য নিরাপত্তা প্রযুক্তির একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।

সংক্ষেপে বলা যায়, ফ্রান্স থেকে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব, দেশীয় শিল্পের বিকাশ এবং সামরিক প্রযুক্তির উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক প্রভাব রাখবে। চূড়ান্ত চুক্তি অনুমোদিত হলে এটি ভারতের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ প্রতিরক্ষা চুক্তি হিসেবে নথিভুক্ত হবে এবং দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত