বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ ১৭ ফেব্রুয়ারি, কোন দেশে দেখা যাবে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৬ বার
বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ ১৭ ফেব্রুয়ারি

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চলতি বছরের প্রথম বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ঘটছে, যা মহাজাগতিক খাগড়ি অনুসন্ধান এবং আকাশপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ পর্যবেক্ষক এবং সাধারণ মানুষ এই মহাকাশীয় দৃশ্যের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময়ে এই বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ বিকেল ৩টা ৫৬ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে শুরু হবে এবং রাত ৮টা ২৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে শেষ হবে। তবে বাংলাদেশ থেকে এই অদ্ভুত মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যাবে না।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে আর্জেন্টিনা, চিলি, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অ্যান্টার্কটিক মহাদেশে এই গ্রহণটি স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদের আবরণে সূর্যের বৃত্তাকার অংশ আংশিকভাবে ঢেকে যাবে, ফলে একটি বলয়াকৃতির আভা দৃশ্যমান হবে, যা বলয়গ্রাস নামে পরিচিত। এটি সাধারণ আংশিক সূর্যগ্রহণের চেয়ে স্বতন্ত্র, কারণ সূর্যগ্রহণের কেন্দ্রীয় অংশে একটি উজ্জ্বল আভা অব্যাহত থাকে, যা মহাকাশপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করছে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, অ্যান্টার্কটিকার চিলির ইয়েলচো গবেষণার ঘাঁটি থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে দক্ষিণ মহাসাগরে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৪টা ৩৮ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে সূর্যগ্রহণ শুরু হবে। গ্রহণের শেষ পর্যায় দেখা যাবে মরিশাসের ভিংট-সিনক দ্বীপ থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ভারত মহাসাগরে, যা স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ২৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডে সমাপ্ত হবে। এই সময়কালকে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে মহাকাশ গবেষকরা বলছেন, বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের কেন্দ্রীয় অংশ চাঁদের দ্বারা আংশিকভাবে আচ্ছাদিত হয়, ফলে সূর্যের পার্শ্বের আভা উজ্জ্বল রিংয়ের মতো দৃশ্যমান হয়। এটি দর্শকের কাছে এক অসাধারণ সৌন্দর্যপূর্ণ চিত্র উপস্থাপন করে। যেহেতু বাংলাদেশে এই গ্রহণ দেখা যাবে না, তাই দেশের আকাশপ্রেমী এবং বিজ্ঞানভিত্তিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক লিঙ্ক ও লাইভ স্ট্রিমের মাধ্যমে এই ঘটনা পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ নিতে পারবে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, যেসব দেশ থেকে এই গ্রহণ দেখা যাবে, সেসব অঞ্চলে আকাশের পরিষ্কার অবস্থার ওপর নির্ভর করে সূর্যগ্রহণের দৃশ্যমানতা নির্ধারণ হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা, চিলি ও আর্জেন্টিনার উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোতে এই বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ পুরোপুরি স্পষ্টভাবে দেখা যাবে, যেখানে আকাশমণ্ডলটি তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার এবং আবহাওয়া গ্রহণের জন্য অনুকূল। অ্যান্টার্কটিকার গবেষণার ঘাঁটি থেকে পর্যবেক্ষণকারীরা এই মহাজাগতিক দৃশ্যের জন্য বিশেষ নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, যাতে চরম ঠান্ডা আবহাওয়ায় পর্যবেক্ষণ করা যায়।

এই বিশেষ মহাজাগতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সংগঠন এবং মহাকাশ গবেষণা সংস্থা পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা বলছেন, বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করলে সূর্যের ক্রোমোস্ফিয়ার, করোনা এবং চাঁদের অবস্থান সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা স্থানীয় সময়ের সঙ্গে যুক্ত গ্লোবাল মানচিত্র ব্যবহার করে সঠিক পর্যবেক্ষণ স্থল নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য এ ধরনের মহাজাগতিক ঘটনা শিক্ষামূলক এবং অনুপ্রেরণামূলক। শিশু ও ছাত্রদের মধ্যে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই ধরনের ঘটনাকে অন্তর্ভুক্ত করছে। বিজ্ঞানপ্রেমী এবং মহাকাশভিত্তিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন ওয়েবিনার ও লাইভ সেশন আয়োজন করেছে, যাতে তারা নিজেদের দেশের নাগরিকদের জন্য সংবেদনশীল এবং নিরাপদ পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সূর্যগ্রহণের সময় সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো বিপজ্জনক, কারণ তা চোখে স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। তাই বিশেষ সূর্যগ্রহণ চশমা বা পর্যবেক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যারা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন না, তারা অনলাইনে লাইভ স্ট্রিম বা টেলিস্কোপের মাধ্যমে গ্রহণটি দেখতে পারবে।

বৈজ্ঞানিকদের মতে, প্রতি বছর কয়েকবার এমন মহাজাগতিক ঘটনা ঘটে, কিন্তু বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বিরল এবং দর্শকের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এটি শুধু সৌন্দর্য নয়, বরং মহাজাগতিক গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ প্রদান করে। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পর্যবেক্ষক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই ঘটনার জন্য বিভিন্ন নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন।

এই বছরের প্রথম বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ বিশ্ববাসীর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক মহাজাগতিক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। আর্জেন্টিনা, চিলি, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অ্যান্টার্কটিকের বিজ্ঞানীরা এই দৃশ্যের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছেন। সাধারণ মানুষও এই মুহূর্তকে চোখে দেখতে এবং ধারণ করতে অপেক্ষা করছে। এ ধরনের মহাজাগতিক ঘটনা শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার সুযোগ দেয় না, বরং বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণাকে উৎসাহিত করে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত