আলোচনা ভাঙলে ইসরাইলকে সহায়তার আশ্বাস ট্রাম্পের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯ বার
আলোচনা ভাঙলে ইসরাইলকে সহায়তার আশ্বাস ট্রাম্পের

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পারমাণবিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার ছায়া ঘনীভূত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা বাড়ছে, ঠিক তখনই ইসরাইলকে গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে ইসরাইলকে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র—এমন বার্তা ইতোমধ্যেই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে জানানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

স্থানীয় সময় রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরেই দুই নেতার মধ্যে হওয়া আলোচনায় ট্রাম্প এই প্রতিশ্রুতি দেন। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকবে।

এই সম্ভাব্য সহায়তার ধরন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে যুদ্ধ শুরু হলে ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলোকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহ, আকাশসীমা ব্যবহারে কূটনৈতিক সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মতো বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তবুও এই প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

পরিস্থিতির জটিলতা আরও বেড়েছে কারণ ইরানের কয়েকটি প্রতিবেশী দেশ ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইসরাইলকে কোনো ধরনের হামলা চালাতে দেবে না। এর ফলে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের কৌশলগত পরিকল্পনা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে গত বছরের জুন মাসে সংঘটিত ১২ দিনের ইসরাইল-ইরান সংঘাতের স্মৃতি। ওই সময় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ইসরাইল হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সহায়তা করেছিল বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সেই সংঘাতের প্রায় আট মাস পর আবারও একই ধরনের সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়া মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার নতুন বার্তা দিচ্ছে।

এদিকে এই প্রতিবেদনের সময়কালও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঠিক এই সময়েই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অংশ নিতে জেনেভায় পৌঁছেছেন। এই আলোচনা মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করার পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংসের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। তার মতে, ইরান যদি পারমাণবিক সক্ষমতা ধরে রাখে, তাহলে তা ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে থাকবে।

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বীকার করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা সফল না হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট বহুবার বলেছেন, তিনি একটি চুক্তি করতে চান। যদিও এটি কঠিন, তবুও যুক্তরাষ্ট্র সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

ইরানের পক্ষ থেকেও কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তখত-রাভানচি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আন্তরিক হয়, তাহলে ইরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, এখন প্রমাণ করার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের। তারা যদি আন্তরিক হয়, তাহলে অবশ্যই একটি সমঝোতার পথ তৈরি হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি করছে। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। ইসরাইলের অন্যতম প্রধান মিত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নতুন কোনো সংঘাত শুরু হলে তার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ভবিষ্যৎও এই আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।

এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ব সম্প্রদায় এখন গভীরভাবে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। কূটনৈতিক সমাধান সম্ভব হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন করে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি যে বাস্তব হয়ে উঠতে পারে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত