নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সিতে ভয়াবহ বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা: দুইজনের মৃত্যু, জনজীবনে বিপর্যয়

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৩১ বার
নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সিতে ভয়াবহ বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা: দুইজনের মৃত্যু, জনজীবনে বিপর্যয়

প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল জুড়ে ভয়াবহ আবহাওয়াজনিত দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। নিউ ইয়র্ক সিটি ও নিউ জার্সিতে টানা ঝড়-বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ফলে রাস্তা, রেলপথ ও বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। নিউ জার্সিতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। প্লেইনফিল্ড এলাকায় হঠাৎ বন্যায় একটি গাড়ি পানিতে ডুবে গেলে দুজন আরোহী নিহত হন। তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। গভর্নর ফিল মারফি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।

একই সময়ে নিউ ইয়র্ক সিটি থেকেও এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে শহরের সেন্ট্রাল পার্কে মাত্র এক ঘণ্টায় ২ ইঞ্চি বা প্রায় ৫ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা নিউ ইয়র্ক নগরীর ইতিহাসে এক ঘণ্টায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। ফলে নগরীর বেশ কয়েকটি সাবওয়ে স্টেশন প্লাবিত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ম্যানহ্যাটনের ওয়েস্ট সাইড এলাকায় পানির স্রোত প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত উঠে যায়। রাস্তায় আটকে পড়ে শত শত গাড়ি। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় ব্যাহত হয় ট্রেন ও ফ্লাইট চলাচলও।

নিউ ইয়র্কের পরিবেশ সুরক্ষা কমিশনার রোহিত আগারওয়ালা জানান, শহরের পুরনো নিকাশি ব্যবস্থা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১.৭৫ ইঞ্চি বা ৪.৪৪ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত সামাল দিতে সক্ষম। ফলে এক ঘণ্টায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং দ্রুত পানিতে প্লাবিত হয় শহরের নিচু এলাকাগুলো। নিউ ইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস বলেন, “আমার জীবনে এমন প্রবল বর্ষণ কখনও দেখিনি।”

নিউ ইয়র্কের উত্তরের ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টি এবং নিকটবর্তী রকল্যান্ড কাউন্টিতেও রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়—যেখানে রকল্যান্ডে ৫ ইঞ্চির বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। কিছু এলাকায় মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই ৬ ইঞ্চি বা ১৫.২৫ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়, যা অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি করে এবং মুহূর্তেই সড়ক ও বাড়িঘর জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ গৃহবন্দি হয়ে পড়েন।

এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে জরুরি বিভাগ ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার এবং ত্রাণ পৌঁছাতে কাজ করছে পুলিশ, দমকল ও স্বেচ্ছাসেবীরা। পরিবেশবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনাগুলো কেবল একটি দৈব দুর্যোগ নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব। নিউ জার্সির গভর্নর মারফি বলেন, “এই চরম আবহাওয়াগুলোই এখন আমাদের নতুন বাস্তবতা। জলবায়ু সংকট এখন ভবিষ্যতের কোনো বিষয় নয়—এটি বর্তমানে বিরাজমান একটি বাস্তবতা।”

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং প্রস্তুতির আশ্বাস দিলেও, নাগরিকদের প্রতি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস এবং বন্ধ রাখা হয়েছে বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম।

এই দুর্যোগ যেন নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সচেতনতা, পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নেওয়া এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত