গোপালগঞ্জে পা রাখলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব: ‘জুলাই পদযাত্রা’ পৌঁছালো হৃদয়ে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৫ বার
গোপালগঞ্জে পা রাখলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব: ‘জুলাই পদযাত্রা’ পৌঁছালো হৃদয়ে

প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মাসব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্কে সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। দুপুর ২টার কিছু পর, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানের গর্জনের মধ্যে দিয়ে নেতাকর্মীরা স্বাগত জানান আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলাম ও কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারাসহ শীর্ষ নেতাদের।

গোপালগঞ্জ শহরে এই সমাবেশ ছিল দিনব্যাপী পদযাত্রার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুসারে কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থলে উপস্থিত হলে আশপাশের এলাকার হাজারো সাধারণ মানুষ ও সমর্থকদের ভিড়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পৌরপার্ক এলাকা। উপস্থিত জনতার হাত উঁচিয়ে উচ্ছ্বসিত অভ্যর্থনায় নেতারা মঞ্চে ওঠেন এবং একাত্মতা প্রকাশ করেন দেশের মানুষের দাবি ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে।

‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’—এই স্লোগান সামনে রেখে ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছে এনসিপি। ইতোমধ্যে রাজধানীসহ দেশের বহু জেলায় এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দলটির প্রতি গণআস্থার প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ গোপালগঞ্জে অনুষ্ঠিত পদযাত্রা ও সমাবেশ ছিল প্রতীকী গুরুত্ববহ এবং রাজনৈতিক তাৎপর্যমণ্ডিত।

গোপালগঞ্জ—একদিকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহুল আলোচিত জনপদ, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির কেন্দ্রস্থল হিসেবেও পরিচিত। এই জনপদেই এনসিপির পদযাত্রা নিয়ে উপস্থিত হওয়া দলটির জন্য ছিল চ্যালেঞ্জিং ও সাহসিকতাপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এই চ্যালেঞ্জকে জয় করেই শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ করেন দলীয় নেতারা এবং জানান, দেশের প্রতিটি জেলা, প্রতিটি জনপদ, প্রতিটি নাগরিকের জন্য তাঁদের রাজনীতি।

সমাবেশস্থলে বক্তৃতা দিতে গিয়ে নেতারা গোপালগঞ্জকে ‘সমগ্র বাংলাদেশের প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন, কোনও জেলা বা অঞ্চল দলীয়করণ কিংবা রাজনৈতিকভাবে বঞ্চনার শিকার হতে পারে না। দেশ গঠনে প্রয়োজন সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলা, কোনও শ্রেণি বা দলের একচ্ছত্র আধিপত্য নয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের এই পদযাত্রা শুধু প্রতিবাদ নয়, প্রস্তাবও। নতুন একটি বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে, গোপালগঞ্জকেও আমরা সঙ্গে নিয়েই এগোতে চাই।” ডা. তাসনিম জারা বলেন, “গোপালগঞ্জ কেবল এক জেলার নাম নয়, এটি বাংলাদেশের প্রতীক। এখানকার প্রতিটি নাগরিকও আমাদের মতোই দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে—আমরা সেই স্বপ্নের পথে তাদের সঙ্গী।”

আজকের এই পদযাত্রা ও সমাবেশ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং একটি বার্তা—বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা, জনপদ এবং মানুষের প্রতিনিধিত্বেই গড়ে উঠবে আগামী দিনের রাষ্ট্রনীতি। এবং সেই অভিযাত্রায় এনসিপি নিজেকে তুলে ধরছে একটি বিকল্প নেতৃত্ব ও ভবিষ্যতের শক্তি হিসেবে।

এনসিপির নেতারা জানান, মাসব্যাপী চলমান এই কর্মসূচির শেষ দিন পর্যন্ত দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে পদযাত্রার সুর এবং জনগণের দাবি।
গোপালগঞ্জে আজকের উপস্থিতি সেই অভিযাত্রার আরেকটি দৃঢ় পা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত